স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) ২০১৬ সালের সম্পূর্ণ নিয়োগ প্যানেল বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার ঘোষিত এই রায়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ২৫,৭৫২ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের নির্দেশ বহাল রাখা হয়েছে। তবে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, চাকরি হারালেও শিক্ষকদের কোনো অর্থ ফেরত দিতে হবে না।
একজনের অপরাধে শাস্তি হাজারো মানুষের? প্রশ্ন তুললেন মমতা


সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার পর এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “একজনের অপরাধে এত মানুষ কেন শাস্তি পাবেন? তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন। তবু হাজার হাজার শিক্ষকের ভবিষ্যৎ নষ্ট হবে কেন?” তিনি আরও বলেন, “এসব শিক্ষকরা বহু বছর ধরে স্কুলের দায়িত্ব সামলেছেন। শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করাই কি বিজেপির লক্ষ্য?”
চাকরি বাতিল, কিন্তু অর্থ ফেরতের দরকার নেই
মুখ্যমন্ত্রীর মতে, সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী যাঁরা ইতিমধ্যেই চাকরিতে ছিলেন, তাঁদের কোনও অর্থ ফেরত দিতে হবে না। তিনি বলেন, “আমরা রায়টি ভালোভাবে পড়েছি। বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমাদের পূর্ণ সম্মান আছে। তবে চাকরি হারানো শিক্ষকদের প্রতি রাজ্য সরকার মানবিক থাকবে।”


নতুন নিয়োগ ও পুরনো চাকরিতে ফেরার সুযোগ
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে, যাঁরা ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার মাধ্যমে চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁরা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। পাশাপাশি, যাঁরা আগের সরকারি চাকরি ছেড়ে এই পেশায় এসেছিলেন, তাঁরা চাইলে পুরনো কর্মস্থলে ফেরার সুযোগ পাবেন।
শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী
সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থও উপস্থিত ছিলেন। সূত্রের খবর, রাজ্য সরকার শিগগিরই পরবর্তী পদক্ষেপ ঘোষণা করবে।
SSC নিয়োগ কেলেঙ্কারির ভবিষ্যৎ কী?
২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেলের অনিয়মের কারণে হাজার হাজার শিক্ষকের চাকরি চলে যাচ্ছে। আদালতের মতে, এই চাকরির ক্ষেত্রে যোগ্য এবং অযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে আলাদা করা সম্ভব নয়। তাই সম্পূর্ণ নিয়োগ প্যানেল বাতিল করা হয়েছে। যদিও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তুঙ্গে।
এই রায় SSC কেলেঙ্কারিতে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়। যদিও চাকরি হারানো শিক্ষকদের জন্য এটি বড় ধাক্কা, তবে অর্থ ফেরতের দায় না থাকায় তাঁরা খানিকটা স্বস্তি পাবেন। এখন দেখার বিষয়, রাজ্য সরকার কীভাবে নতুন নিয়োগ ব্যবস্থা কার্যকর করে।







