আরজি কর-কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত গণধর্ষণের প্রমাণ নেই, আদালতে জানাল CBI

আজ শিয়ালদহ আদালতে ধৃত সন্দীপ ও অভিজিতকে তোলে সিবিআই। সেখানে বিচারপতি জানতে চান, সরাসরি ধর্ষণ ও খুনের সঙ্গে এই দু'জন যুক্ত কিনা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

আর জি কর ধর্ষণ ও খুন কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত কেবলমাত্র সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ার গ্রেফতার হয়েছে। এক মাসের বেশি সময় অতিক্রান্ত এই ঘটনার তদন্তভার হাতে নিয়েছে সিবিআই। মঙ্গলবার আরজি কর মামলার চতুর্থ শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। সেখানে তদন্তের স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। কিন্তু, ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় কি একা সঞ্জয়ই যুক্ত? এ বিষয়ে এখনও পরিষ্কার করে কিছু বলতে পারেননি গোয়েন্দারা।

গত ৯ অগস্ট আর জি কর হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজের চার তলার সেমিনার হলে চেস্ট মেডিসিন বিভাগের এক তরুণী চিকিৎসকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তের পর জানা যায়, ওই চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় উত্তাল গোটা দেশ। উঠে এসেছে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ। সেই মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন আর জি কর হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। একই সঙ্গে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগেও গত শনিবার সন্দীপ এবং টালা থানার ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই।

আজ শিয়ালদহ আদালতে ধৃত সন্দীপ ও অভিজিতকে তোলে সিবিআই। সেখানে বিচারপতি জানতে চান, সরাসরি ধর্ষণ ও খুনের সঙ্গে এই দু’জন যুক্ত কিনা। উত্তরে সিবিআই জানায়, তাঁদের কাছে এখনও পর্যন্ত সেরকম কোনও গণধর্ষণের প্রমাণ নেই। তবে, গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, সন্দীপ ঘোষ এবং টালা থানার তৎকালীন ওসি অভিজিৎ মণ্ডল জেরায় সদুত্তর দিচ্ছেন না। তাই তাঁদের আরও তিন দিনের সিবিআই হেফাজতের আর্জি জানান গোয়েন্দারা।

পাশাপাশি, এই দু’জন ধর্ষণের পর প্রমাণ লোপাটের ষড়যন্ত্রে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত ছিলেন বলে সিবিআইয়ের দাবি। মৃতদেহ উদ্ধারের পর থেকে সন্দীপ ও অভিজিতের মোবাইলে সবচেয়ে বেশি কথাবার্তা হয়েছিল বলে নাকি দেখা গিয়েছে কল ডিটেলসে। বেশ কয়েকটি ‘সন্দেহজনক’ মোবাইল নম্বরেও তাঁরা বার বার কথা বলেছেন। তাছাড়া এই ঘটনার আগেও দু’জন দু’জনকে চিনতেন বলে জানা গিয়েছে। এমনকি, সন্দীপ ওসি অভিজিতকে ক্যামেরার ফুটেজ নষ্ট করার জন্য ব্যবহার করে ছিলেন গোয়েন্দাদের সন্দেহ। সন্দীপ অভিজিতের উপরে কর্তৃত্ব ফলিয়েছেন, এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর