বিহারের রাজনীতিতে বড় মোড়। দীর্ঘদিন মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলানোর পর এবার রাজ্যসভায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন নীতীশ কুমার। বৃহস্পতিবার সকালে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে নিজেই এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন তিনি। সেই সঙ্গে লেখেন, রাজ্যসভায় যাওয়ার বাসনা তাঁর অনেক দিনের। এই ঘোষণার পরই বিহারের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা—তাঁর জায়গায় কে হতে চলেছেন রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী?
সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথা নীতীশ কুমারের। এর পরেই রাজ্যের ক্ষমতার সমীকরণে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।


নীতীশের সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই বিহারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তাঁর পুত্র নিশান্ত কুমার সক্রিয় রাজনীতিতে আসতে পারেন এবং উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন। যদিও এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর পদে বিজেপির কোনও নেতা আসতে পারেন বলেও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে। সেই দৌড়ে বর্তমান উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরির নামই সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে। যদি তা হয়, তবে এই প্রথম বিহারে বিজেপির কোনও নেতা মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসতে পারেন।
উল্লেখ্য, দু’দিন আগেই জেডিইউ-র এক প্রবীণ নেতা শারওয়ান কুমার জানিয়েছিলেন, খুব শিগগিরই নীতীশের ছেলে নিশান্ত কুমার সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেবেন। দলের পক্ষ থেকে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও দেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। যদিও ‘গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।


রাজ্যসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৫ মার্চ। আগামী ১৬ মার্চ বিহারের পাঁচটি-সহ দেশের ১০টি রাজ্যের মোট ৩৭টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচন হওয়ার কথা। একই দিনে পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি আসনেও ভোট হবে।
বিধায়কসংখ্যার হিসাব অনুযায়ী বিহারে এনডিএ জোটের অবস্থান যথেষ্ট শক্তিশালী। বিজেপির ৮৯ জন এবং জেডিইউ-র ৮৫ জন বিধায়ক থাকায় অন্তত চারটি আসনে তাদের জয় প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। তবে পঞ্চম আসনটি নিয়ে রাজনৈতিক সমীকরণ এখনও খোলা রয়েছে।
সব মিলিয়ে নীতীশ কুমারের এই সিদ্ধান্ত বিহারের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।







