কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে থাকা আলিপুর চিড়িয়াখানার বাদুড়গুলো কি আদৌ নিরাপদ? নাকি তাদের শরীরেই নিঃশব্দে বাসা বাঁধছে ভয়ঙ্কর নিপা ভাইরাস? শহরজুড়ে উঠতে শুরু করা এই প্রশ্নের মধ্যেই ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই চিড়িয়াখানায় হাজির বিশেষজ্ঞ দল। বাদুড়দের রক্ত ও সোয়াবের নমুনা সংগ্রহ করে আরটি-পিসিআর পরীক্ষার জন্য পাঠিয়ে দিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তরের সঙ্গে যুক্ত গবেষণা সংস্থা। ঠিক কতটা উদ্বেগের কারণ রয়েছে, তা জানতে এখন তাকিয়ে রিপোর্টের দিকেই।
ভোরেই নমুনা সংগ্রহ, দর্শনার্থীদের আগেই কাজ সেরে বেরিয়ে গেল টিম
সূত্রের খবর, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি (NIV) এবং আইসিএমআর (ICMR)-এর সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞদের একটি দল ভোরে আলিপুর চিড়িয়াখানায় পৌঁছে বাদুড়দের রক্ত ও সোয়াবের নমুনা সংগ্রহ করে। সকাল ৯টায় দর্শনার্থীদের জন্য চিড়িয়াখানার গেট খোলার আগেই যাবতীয় কাজ সেরে টিম সেখান থেকে বেরিয়ে যায়।


চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে আপাতত আতঙ্কিত হওয়ার মতো কোনও পরিস্থিতি নেই বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছেন প্রশাসনিক কর্তারা।
রাজ্যজুড়ে নিপার উৎস খুঁজতে বাদুড়ের আরটি-পিসিআর পরীক্ষা
প্রসঙ্গত, নিপা ভাইরাসের সম্ভাব্য উৎস চিহ্নিত করতেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বাদুড়দের আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই মধ্যমগ্রাম, বারাসত এবং বসিরহাট এলাকা থেকে কিছু বাদুড়ের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা হয়েছে।
কলকাতায় বাদুড়ের সবচেয়ে বড় “আখড়া” বলতে গেলে আলিপুর চিড়িয়াখানাই অন্যতম কেন্দ্র। তাই স্বাভাবিকভাবেই স্বাস্থ্যদপ্তরের নজর এবার চিড়িয়াখানার দিকেও পড়েছে।


স্বাস্থ্যদপ্তর-এনআইভি-আইসিএমআর একসঙ্গে করছে পরীক্ষা, সহযোগিতায় বনদপ্তর
এই পরীক্ষার কাজ পরিচালনা করছে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর। পাশাপাশি এনআইভি এবং আইসিএমআর মিলিয়ে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হচ্ছে। নমুনা সংগ্রহের কাজে সহযোগিতা করছে রাজ্য বনদপ্তর।
রাজ্যের চিফ ওয়াইল্ডলাইফ ওয়ার্ডেন (CWLW) সন্দীপ সুন্দ্রিয়াল জানিয়েছেন, বাদুড় ধরতে হলে বনদপ্তরের অনুমতি প্রয়োজন হয়। স্বাস্থ্যদপ্তর সেই অনুমোদন চেয়েছিল এবং তা দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, রাজ্যের যেখানে যেখানে বাদুড় রয়েছে, সেইসব এলাকায় বিশেষজ্ঞ টিম গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করছে।
আতঙ্ক নয়, রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে রাজ্য— আলিপুরের বাদুড় নিরাপদ তো?
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, চিড়িয়াখানার ক্ষেত্রে আগাম সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। তবে আলিপুরের বাদুড় সত্যিই কতটা নিরাপদ— তা জানতে আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে, কারণ পরীক্ষার রিপোর্ট আসা পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
এদিকে শনিবার বিশেষজ্ঞ দল নদিয়া জেলায় বাদুড়ের নমুনা সংগ্রহের কাজেও বেরোচ্ছে বলে খবর। অর্থাৎ নিপা সংক্রান্ত নজরদারি রাজ্যজুড়ে আরও বিস্তৃত হচ্ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।







