রাজ্যে নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক! —কোন লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হবেন, কীভাবে এড়াবেন সংক্রমণ?

বারাসতে দুই নার্স নিপা সন্দেহে ভেন্টিলেশনে, নমুনা পুণেতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। জ্বর-কাশির সঙ্গে বিভ্রান্তি, শ্বাসকষ্ট হলে সতর্ক হন দ্রুত।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গে ফের নিপা ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ ছড়াল। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে দুই নার্সকে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, দু’জনেরই অবস্থা সঙ্কটজনক, রাখা হয়েছে ভেন্টিলেশনে। যদিও এখনও চূড়ান্ত নিশ্চিত নয়—নমুনা পাঠানো হয়েছে পুণের পরীক্ষাগারে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি বিষয় একটাই—লক্ষণগুলো দ্রুত চেনা এবং সংক্রমণ ঠেকাতে সতর্ক হওয়া।

কী এই নিপা ভাইরাস? কেন এত ভয়?

নিপা ভাইরাস একটি জুনোটিক ভাইরাস, অর্থাৎ এটি প্রথমে প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাইরাসটির প্রধান উৎস ফলখেকো বাদুড়। বাদুড়ের আধখাওয়া ফল, ফলের উপর লালা/মলমূত্রের সংস্পর্শ কিংবা দূষিত খাবার থেকেও সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। শুধু তাই নয়—আক্রান্ত ব্যক্তির লালা-থুতু, পোশাক, বিছানা কিংবা ব্যবহৃত জিনিসপত্র থেকেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয়, নিপায় মৃত্যুঝুঁকি বেশ বেশি—বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নিপা ভাইরাসে মৃত্যুহার অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ হতে পারে এবং দ্রুত জটিলতা দেখা দেয়।

নিপা ভাইরাসের উপসর্গ: ভাইরাল জ্বর ভেবে ভুল করবেন না

নিপা ভাইরাস শরীরে ঢোকার পর সাধারণত ৪ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে লক্ষণ দেখা দেয়।
শুরুতে উপসর্গ অনেকটাই সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতো হতে পারে—যার ফলে বিপদটা আরও বেড়ে যায়।

প্রাথমিক লক্ষণ

ঝুঁকির লক্ষণ (Danger Signs)

  • আচরণে পরিবর্তন, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব

  • বিভ্রান্তি, ভুল বকা, কাউকে চিনতে না পারা

  • খিঁচুনি

  • অচেতন হয়ে যাওয়া বা কোমায় চলে যাওয়ার লক্ষণ

এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে উপযুক্ত চিকিৎসা পরিকাঠামো আছে এমন হাসপাতালে ভর্তি করানো জরুরি। কারণ নিপা ভাইরাস গুরুতর হলে এনসেফেলাইটিস (মস্তিষ্কে প্রদাহ) তৈরি করতে পারে।

কীভাবে পরীক্ষা হয়? কেন সব জায়গায় টেস্ট সম্ভব নয়?

নিপা ভাইরাস ধরা পড়ে না সাধারণ রক্তপরীক্ষায়। নিশ্চিত হতে প্রয়োজন বিশেষায়িত ল্যাব টেস্ট। সাধারণত আক্রান্তের

  • লালা/থুতু

  • মূত্র

  • বা বিশেষ কিছু নমুনা
    থেকে পরীক্ষা করা হয়। নিরাপত্তার কারণে এটি বিশেষ মানের ল্যাব ছাড়া সব জায়গায় করা যায় না—কারণ ভাইরাসটি অত্যন্ত সংক্রামক।

নিপা থেকে বাঁচতে কী করবেন? (Prevention Tips)

নিপার ক্ষেত্রে এখনও নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন বা নিশ্চিত চিকিৎসা নেই—তাই প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

সাধারণ সতর্কতা

  • হাত ভালো করে সাবান দিয়ে ধোবেন (খাওয়ার আগে/বাইরে থেকে এসে)

  • মুখ-নাকে বারবার হাত দেওয়া কমাবেন

  • অসুস্থ ব্যক্তির খুব কাছাকাছি না যাওয়াই ভালো

খাবার ও ফল নিয়ে সতর্কতা

  • কাটা/খোলা ফল না খাওয়াই নিরাপদ

  • বাজার থেকে ফল কিনলে ভালো করে দেখে নিন

  • যেসব ফল পড়ে ছিল বা আধখাওয়া—সেগুলি এড়িয়ে চলুন

যদি এলাকায় সন্দেহজনক সংক্রমণ থাকে

  • ভিড় এড়িয়ে চলুন

  • প্রয়োজন হলে মাস্ক ব্যবহার করুন

  • রোগীর পরিচর্যাকারীদের আরও সতর্ক থাকতে হবে

CDC-এর গাইডলাইন অনুযায়ী, নিপা সন্দেহ হলে স্বাস্থ্যকর্মীদের গ্লাভস, গাউন, চোখের সুরক্ষা ও N95 (বা তার বেশি ক্ষমতার) মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর