পশ্চিমবঙ্গে নিপা সংক্রমণ ঘিরে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, তা এবার মৃত্যুর খবরেই আরও গভীর হল। বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিপা আক্রান্ত এক নার্সের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যে নিপা সংক্রমণে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা বলে জানা যাচ্ছে।
গত ৪ জানুয়ারি থেকে দুই স্বাস্থ্যকর্মী ওই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। দীর্ঘ ৩৯ দিন লড়াই করার পর তাঁদের মধ্যে এক নার্সের মৃত্যু হল বৃহস্পতিবার বিকেলে। মৃত নার্সের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায়। জ্বর ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউ-তে ভর্তি করা হয় এবং ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়।


অন্য আক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মী কয়েকদিন আগেই সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। পরে আরও দু’জনকে ভর্তি করা হলেও তাঁদের শরীরে নিপা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত নার্স দীর্ঘদিন কোমায় ছিলেন। তাঁর অটোনোমিক নার্ভাস সিস্টেম ঠিকমতো কাজ করছিল না। দীর্ঘ সময় ভেন্টিলেশনে থাকার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। এরই মধ্যে ফুসফুসে সংক্রমণ দেখা দেয়, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিট নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়।
চলতি বছরের শুরুতেই উত্তর ২৪ পরগনায় এক ব্রাদার নার্স ও এক সিস্টার নার্সের নিপা সংক্রমণের খবর সামনে আসে। সেই ব্রাদার নার্স জানুয়ারির শেষ সপ্তাহেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। কিন্তু অন্য আক্রান্ত নার্সের শারীরিক অবস্থা ক্রমশ অবনতি হতে থাকে।


চিকিৎসকদের মতে, ভেন্টিলেশন থেকে বেরিয়ে এলেও তিনি পুরোপুরি সাড়া দিচ্ছিলেন না। মাঝে মাঝে চোখ খোলা, হাত-পা নড়ানো বা কথা বলার চেষ্টা করলেও অবস্থার স্থিতিশীলতা আসেনি। হঠাৎই বৃহস্পতিবার তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয়।
রাজ্যে নিপা সংক্রমণে প্রথম মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য দফতরের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নজরদারি ও সতর্কতা জোরদার করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।









