কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ বিমলেশ পাণ্ডে জানিয়েছেন, উচ্চ রক্তচাপ একটি বহুমাত্রিক সমস্যা। বয়স, অতিরিক্ত ওজন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং বংশগত কারণ— সবকিছুই এর পিছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই সকল রোগীর ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
চিকিৎসকদের মতে, অনেক সময় স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, কিডনির সমস্যা কিংবা অন্যান্য জটিলতা এড়াতে দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ প্রয়োজন হয়। তবে এর অর্থ এই নয় যে, প্রত্যেক রোগীকেই সারাজীবন একই মাত্রায় ওষুধ খেতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, যদি প্রাথমিক পর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়ে এবং রোগী নিয়মিত জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে সক্ষম হন, তাহলে অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়। তখন চিকিৎসকেরা ওষুধের মাত্রা কমানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে জীবনযাপনের অভ্যাস। নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, কম নুনযুক্ত খাবার, ধূমপান ও মদ্যপান বর্জন এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস উচ্চ রক্তচাপ কমাতে অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করেন চিকিৎসকেরা।
তবে একটি বিষয় সবসময় মনে রাখা জরুরি। অনেক রোগী মনে করেন, কয়েক মাস ওষুধ খাওয়ার পর রক্তচাপ স্বাভাবিক হয়ে গেলে ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া যায়। চিকিৎসকদের মতে, এটি একটি বড় ভুল ধারণা। কারণ অনেক সময় ওষুধের কারণেই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ করে ওষুধ বন্ধ করলে রক্তচাপ আবার দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক বা অন্যান্য গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হয়।
তাই রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকলেও নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়। চিকিৎসকের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং শারীরিক অবস্থার মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ওষুধ কমানো বা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
সবশেষে চিকিৎসকদের পরামর্শ, হাইপারটেনশনকে ভয় না পেয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখার দিকে গুরুত্ব দিন। সঠিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং নিয়মিত ফলো-আপই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।



