সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ওয়েস্ট বেঙ্গল হাইওয়ে ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন করে গড়ে তুলেছে এই এক্সপ্রেসওয়ে। ৩ মার্চ দোলযাত্রার আগের দিন কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত দোল ও হোলি মিলন উৎসব থেকেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে উদ্বোধন করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।
বেলঘরিয়া–কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে জংশন থেকে কাঁচরাপাড়া কাঁপা মোড় পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ছয় লেনের সড়ক এখন সম্পূর্ণ সিগন্যালমুক্ত। এলিভেটেড করিডর ও আন্ডারপাসের মাধ্যমে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়কে সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে পুরো পথ মাত্র ৪০ মিনিটেই অতিক্রম করা সম্ভব হবে বলে দাবি প্রশাসনের।
নিরাপত্তা ও যাত্রীসুবিধাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তৈরি হয়েছে এই প্রকল্প। এক্সপ্রেসওয়ের দুই পাশে স্থানীয় যানবাহনের জন্য সার্ভিস রোড ও স্লিপ রোড রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নির্মিত হয়েছে চারটি বড় ফ্লাইওভার, সাতটি বড় আন্ডারপাস, ছ’টি ছোট আন্ডারপাস এবং প্রায় ৭০টি ছোট ও মাঝারি কালভার্ট। রয়েছে ট্রাক লে-বাই, ৫৬টি যাত্রী প্রতীক্ষালয় এবং পাঁচটি আধুনিক শৌচালয়।
কলকাতা বিমানবন্দর থেকে বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের এলিভেটেড করিডর ধরে সরাসরি কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠা যাবে। সেখান থেকে ঈশ্বর গুপ্ত সেতু পার হয়ে জাতীয় সড়ক-১২ ও রাজ্য সড়ক-৬ ধরে উত্তরবঙ্গের দিকে দ্রুত যাতায়াত সম্ভব হবে।
রাজ্য পূর্ত দপ্তরের মতে, এই এক্সপ্রেসওয়ে কার্যত যশোহর রোড ও বিটি রোডের বিকল্প পথ হিসেবে কাজ করবে। দমদম বিমানবন্দর, কল্যাণী এইমস এবং উত্তর শহরতলির বেলঘরিয়া, সোদপুর, ব্যারাকপুর, নৈহাটি, কাঁচরাপাড়া, বারাসাত, মধ্যমগ্রাম ও কল্যাণীর মধ্যে যোগাযোগ আরও দ্রুত ও সহজ হবে।
সব মিলিয়ে, দোলের আগে এই নতুন এক্সপ্রেসওয়ে শুধু একটি রাস্তা নয়—উত্তরবঙ্গমুখী যাতায়াত ও শহরতলির যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের সূচনা বলেই মনে করছে প্রশাসন।