পশ্চিম এশিয়ার অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি আরও জটিল মোড় নিচ্ছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক দাবি—ইরানের পরমাণু শক্তি কার্যত ধ্বংস—আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে। এই ঘোষণার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, বাস্তবে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তেহরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা, আর এই সংঘাত কোন দিকে এগোতে চলেছে।
বুধবার ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক গ্যাস ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইজরায়েল। তবে পরদিন মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, এই হামলার বিষয়ে আগাম কোনও তথ্য তাদের কাছে ছিল না। তাঁর কথায়, আমেরিকাকে না জানিয়েই অভিযান চালানো হয়েছে, যদিও ভবিষ্যতে এমন পদক্ষেপ আর নেওয়া হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।


এই প্রেক্ষাপটে সামনে এসে সরাসরি বক্তব্য রাখেন নেতানিয়াহু। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর মৃত্যু নিয়ে ছড়ানো গুজব উড়িয়ে দিয়ে তিনি জানান, তিনি সুস্থ এবং সক্রিয় রয়েছেন। সেই সঙ্গেই করেন আরও বড় দাবি—“ইরানের পরমাণু শক্তি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।”
নেতানিয়াহুর দাবি, গত ২০ দিনের সংঘাতে ইরানের সামরিক পরিকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর কথায়, বর্তমানে তেহরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ক্ষমতা কার্যত নেই, এমনকি ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরির সক্ষমতাও ভেঙে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা জিতছি, আর ইরান ধ্বংসের পথে।” তবে একইসঙ্গে স্বীকার করেন, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে এখনও আরও পদক্ষেপ প্রয়োজন।


এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন একটাই—এই সংঘাত কি আরও বড় যুদ্ধের দিকে গড়াবে, নাকি কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুলবে।







