রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে আমেরিকা যাবেন না মোদি, বার্তা কি ট্রাম্পকে?

রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তাঁর পরিবর্তে ভাষণ দেবেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। এর নেপথ্যে কূটনৈতিক বার্তাই কি লুকিয়ে আছে?

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বর্জন। জানা গিয়েছে, ২৬ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত ভাষণ বাতিল করে তিনি এবার নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন না। তাঁর পরিবর্তে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর, যিনি ২৭ সেপ্টেম্বর ভাষণ দেবেন।

প্রসঙ্গত, জুলাই মাসে প্রকাশিত রাষ্ট্রসংঘের তালিকায় নিশ্চিত করা হয়েছিল যে চিন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের প্রধানদের সঙ্গে যোগ দেবেন মোদিও। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পাল্টে জয়শংকরের কাঁধেই দায়িত্ব দেওয়া হলো।

ট্রাম্প-মোদি সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন
এবারের রাষ্ট্রসংঘ অধিবেশনে প্রথম ভাষণ দেবেন ব্রাজিলের প্রতিনিধি, আর দ্বিতীয় বক্তা হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্ষমতায় ফেরার পর এটাই তাঁর প্রথম উপস্থিতি। স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক মহল নজর রাখছে তাঁর বক্তব্যের ওপর। বিশেষ করে ওয়াশিংটন-দিল্লি সম্পর্কের টানাপোড়েনের আবহে মোদির অনুপস্থিতি নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

সম্প্রতি ‘শুল্কযুদ্ধ’-এর কারণে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কে বেশ কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প একাধিকবার ভারতকে নিশানা করেছেন। এমনকি এসসিও সম্মেলনে পুতিন ও জিনপিংয়ের পাশে মোদিকে দেখে ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করেন— “মনে হচ্ছে রাশিয়া ও ভারতকে অন্ধকার চিনের কাছে হারিয়ে ফেলেছি।”

বিদেশ মন্ত্রকের অবস্থান
ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ট্রাম্পের পোস্ট নিয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করা হবে না। তবে কূটনৈতিক মহল মনে করছে, এই পদক্ষেপ নিছক প্রোটোকলের কারণে নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রসংঘ অধিবেশনে মোদির অনুপস্থিতি আসলে এক ধরনের ‘ঘুরিয়ে বার্তা’, যা সরাসরি আমেরিকার উদ্দেশেই দেওয়া হচ্ছে।

এর আগেও প্রাক্তন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বল্টন মন্তব্য করেছিলেন যে, ট্রাম্প ও মোদির সম্পর্ক কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছে। যদিও পরে ট্রাম্প নিজে ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, তাঁর হতাশা থেকেই এমন মন্তব্য করেছিলেন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষণ
ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাম্প্রতিক অতীতে বাণিজ্যিক দ্বন্দ্ব ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। এমন অবস্থায় রাষ্ট্রসংঘের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে মোদির অনুপস্থিতি কেবল ক্যালেন্ডারের পরিবর্তন নয়, বরং আন্তর্জাতিক বার্তা হিসেবেই ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নিউ ইয়র্কের মঞ্চে জয়শংকরের ভাষণ ভারতের পক্ষ থেকে হয়তো বেশি কূটনৈতিক ও পরিমিত বার্তা বহন করবে। কিন্তু ট্রাম্প কী বলেন, এবং ভারতের অবস্থান কেমন থাকে— সেটিই এবার আন্তর্জাতিক কূটনীতির মূল আকর্ষণ হতে চলেছে।

-বিজ্ঞাপন- Shamim Ahamed Ads
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত