ভারত-রাশিয়া সামরিক চুক্তি কার্যকর: একে অন্যের ঘাঁটি ব্যবহার, মোতায়েন হবে সেনা-যুদ্ধজাহাজ

নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ভারত-রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতা আরও গভীর—৩,০০০ সেনা, যুদ্ধজাহাজ ও বিমান মোতায়েনের সুযোগ; যৌথ মহড়া ও লজিস্টিক সহায়তায় জোর

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণে বড় পদক্ষেপ—ভারত ও Russia-র মধ্যে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সই হওয়া দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি অবশেষে কার্যকর হল। এই চুক্তির ফলে শুধু প্রযুক্তি বিনিময় বা যৌথ অস্ত্র নির্মাণই নয়, প্রয়োজনে দুই দেশ একে অন্যের সামরিক ঘাঁটি, বন্দর এবং আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে। এমনকি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সেনা, যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনের ব্যবস্থাও থাকছে।

রুশ সংবাদসংস্থা ‘তাস’ এবং ‘স্পুটনিক’-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, চুক্তি অনুযায়ী ভারত ও রাশিয়া একে অপরের ভূখণ্ডে সর্বাধিক ৩,০০০ সেনা, পাঁচটি যুদ্ধজাহাজ এবং ১০টি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করতে পারবে। এর ফলে দুই দেশের সামরিক সমন্বয় এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই চুক্তি মূলত ‘ইন্দো-রাশিয়ান রেসিপ্রোকাল এক্সচেঞ্জ অফ লজিস্টিকস এগ্রিমেন্ট’ বা ‘রেলোস’-এর সম্প্রসারিত রূপ। Narendra Modi এবং Vladimir Putin-এর বৈঠকের পর এই চুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত হয়। প্রতিরক্ষামন্ত্রী Rajnath Singh এবং রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রে বেলুসোভের আলোচনায় তা আরও স্পষ্ট রূপ পায়।

চুক্তি কার্যকর করতে রাশিয়া ইতিমধ্যেই তাদের সামরিক বিধিতে সংশোধন এনেছে। এর ফলে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগে যৌথভাবে তৈরি অস্ত্র তৃতীয় দেশে রফতানির ক্ষেত্রেও পথ খুলে গেল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের আন্তর্জাতিক বাজারে উপস্থিতি বাড়বে।

কৌশলগত দিক থেকেও এই চুক্তির গুরুত্ব যথেষ্ট। রাশিয়ার মুরমানস্ক ও সেভেরোমোরস্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ব্যবহারের সুযোগ পাবে ভারত। একই সঙ্গে উত্তর মেরু অঞ্চলে ভারতের উপস্থিতি জোরদার হবে, যেখানে ইতিমধ্যেই রাশিয়া ও চিন সক্রিয়।

অন্যদিকে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে রাশিয়ার নৌবাহিনী ভারতীয় ঘাঁটি থেকে জ্বালানি, মেরামত ও অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তা পাবে। অর্থাৎ দীর্ঘ দূরত্বের সামরিক অভিযানে সময় ও খরচ—দুইই কমবে।

চুক্তির আওতায় শুধু যুদ্ধ পরিস্থিতিই নয়, শান্তিকালেও যৌথ মহড়া, প্রশিক্ষণ, মানবিক সাহায্য, প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা এবং অন্যান্য পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও একে অপরের পরিকাঠামো ব্যবহার করা যাবে।

এই চুক্তি প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে, পরবর্তীতে পারস্পরিক সম্মতিতে এর মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে এই চুক্তি ভারত-রাশিয়া সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগে United States-এর সঙ্গে ‘লেমোয়া’ চুক্তি করেছিল ভারত, তবে সেখানে সেনা মোতায়েনের বিধান ছিল না। সেই দিক থেকে বর্তমান ভারত-রাশিয়া চুক্তি আরও বিস্তৃত ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

-বিজ্ঞাপন- Shamim Ahamed Ads
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত