যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ফুরোনোর মুখে কূটনৈতিক সমাধানের পথেই বড় ধাক্কা—ইরান সরাসরি নাকচ করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-এর সঙ্গে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা। ইসলামাবাদে বৈঠকের জল্পনাকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়ে তেহরান স্পষ্ট করে দিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার পরিবেশ নেই বললেই চলে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, পাকিস্তানের রাজধানীতে বৈঠক নিয়ে যে খবর ছড়িয়েছে তা ভিত্তিহীন। তাদের দাবি, ওয়াশিংটনের ‘অতিরিক্ত ও অবাস্তব’ দাবিদাওয়া, অবস্থানের বারবার পরিবর্তন এবং তথাকথিত নৌ-অবরোধ—এই সবই আলোচনার পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।


আগামী ২২ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা। তার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিনিধিদলকে ইসলামাবাদ-এ পাঠানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু তার পরই ইরানের এই সাফ ‘না’ কূটনৈতিক অচলাবস্থাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
ইরানের অভিযোগ, ওয়াশিংটন একদিকে অবরোধ জারি রেখে চাপ সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে আলোচনার নামে ‘দোষারোপের রাজনীতি’ চালাচ্ছে। পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোঘাদাম প্রকাশ্যেই মার্কিন অবস্থানের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন, অবরোধ জারি রাখা এবং হুমকি—এসব চলতে থাকলে কোনও অর্থবহ কূটনীতি সম্ভব নয়।
এই অচলাবস্থার কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের বন্দরগুলিকে ঘিরে মার্কিন অবরোধ। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ একটি ইরানি জাহাজে গুলি চালিয়ে সেটিকে আটক করে। তেহরান সেই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিশোধের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।


ইরানের সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি এবং তাসনিম নিউজ এজেন্সি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল, আলোচনার পরিবেশ ইতিবাচক নয়। তাদের মতে, অবরোধ প্রত্যাহারই হতে পারে যে কোনও আলোচনার প্রথম শর্ত।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত সাময়িকভাবে থেমেছিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে। কিন্তু সেই সময়সীমা শেষের মুখে এসে ফের উত্তেজনা বাড়ছে।
এদিকে মার্কিন পক্ষ এখনও আশাবাদী সুরে কথা বলছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, একটি ‘ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত’ চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং তিনি আশা করছেন তেহরান তা গ্রহণ করবে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন—চুক্তি না হলে ইরানের পরিকাঠামোর উপর হামলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, কূটনৈতিক পথ আপাতত বন্ধই রইল। যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে।








