দিল্লির রাজনৈতিক অন্দরে নতুন জল্পনা। অস্তিত্ব সংকটে পড়া তৃণমূল কংগ্রেস কি শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের সঙ্গেই পথ চলার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে? কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ বৈঠক এবং রাহুল গান্ধীর সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৃথক আলোচনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল জল্পনা। দুই দলের মধ্যে সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়েই এখন চর্চা তুঙ্গে।
সূত্রের দাবি, দিল্লিতে সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এমনকি কংগ্রেসের সঙ্গে সম্ভাব্য সংযুক্তি বা বৃহত্তর রাজনৈতিক সমন্বয়ের বিষয়েও কথাবার্তা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের অনুমান। যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি কংগ্রেস বা তৃণমূল।
অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেও সূত্রের খবর। বৈঠকে জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
এই আবহে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেন, বিরোধী জোট INDIA-র রাজনীতির স্বাভাবিক পরিণতিই হল বিভিন্ন দলের মধ্যে আলোচনা ও সমন্বয়। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই ধরনের বৈঠক হচ্ছে। পাশাপাশি দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদেরও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি।
তবে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা অধীর চৌধুরী এই জল্পনা নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, দলীয় সংযুক্তি হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র শীর্ষ নেতৃত্বের। তবে তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের উচিত নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি আরও বাড়ানো এবং রাজ্যে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উঠে আসা।
অধীর আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গের বহু মানুষ, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাংশ, এখন কংগ্রেসের দিকে নতুন রাজনৈতিক বিকল্প হিসেবে তাকিয়ে রয়েছেন। সেই কারণে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সনিয়া গান্ধীর বৈঠক নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ, নাকি ভবিষ্যতের বড় কোনও রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত— তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে এই বৈঠক যে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
কংগ্রেস ও তৃণমূলের সম্পর্ক ভবিষ্যতে কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে দিল্লিতে ধারাবাহিক বৈঠক এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। আগামী দিনে দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থানই এই জল্পনার বাস্তবতা নির্ধারণ করবে।



