মহারাষ্ট্রের নাগপুরে স্বামীকে খুনের অভিযোগ উঠল স্ত্রীর বিরুদ্ধে। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে আপত্তির জেরেই স্বামী গৌরব রাগদেকে খুন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় প্রায় ছয় মাস ধরে পলাতক থাকার পর ২৯ বছরের দীপালি ওরফে বালি বিজয় সালুঙ্কেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, প্রেমিক হৃষীকেশ খোদে এবং তাঁর কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে মিলে গৌরবের উপর হামলা চালানো হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশায় অটোরিকশা চালক গৌরব নাগপুরের আজনি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। দীপালির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের পরই তাঁদের বিয়ে হয়। তবে পরবর্তী সময়ে হৃষীকেশ খোদের সঙ্গে দীপালির ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে অভিযোগ।
পুলিশের দাবি, স্ত্রীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা জানতে পেরে আপত্তি জানিয়েছিলেন গৌরব। বিষয়টি নিয়ে দু’জনের মধ্যে একাধিকবার বচসাও হয়। এরপর দীপালি স্বামীর বাড়ি ছেড়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন বলে জানা গিয়েছে।
গত ২০ অগস্ট বিকেলে গৌরব তাঁর বাবাকে ফোন করে জানান, দীপালি এবং হৃষীকেশের সঙ্গে বিষয়টি মিটিয়ে কথা বলতে তিনি নাগপুরের নরেন্দ্র নগরে যাচ্ছেন। সেখানেই পরে তাঁর উপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ সূত্রের দাবি, গৌরব সেখানে পৌঁছনোর সময় হৃষীকেশ কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রথমে বচসা শুরু হয়। গৌরবের পরিবারের অভিযোগ, সেই সময় ঘটনাস্থলে দীপালিও উপস্থিত ছিলেন।
পরিবারের দাবি, দীপালির নির্দেশেই গৌরবের উপর ছুরি নিয়ে হামলা করা হয়। পর পর আঘাতে গুরুতর জখম হন তিনি। স্থানীয়দের সাহায্যে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর থেকেই দীপালি নিখোঁজ ছিলেন। পুলিশ তাঁকে খুঁজছিল বলে জানা গিয়েছে।
প্রায় ছয় মাস ধরে পুলিশের চোখ এড়িয়ে থাকার পর শনিবার দীপালিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
থানে ক্রাইম ব্রাঞ্চের সিনিয়র আধিকারিক শৈলেশ সালভির দাবি, জেরায় দীপালি ঘটনায় নিজের ভূমিকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাঁর স্বীকারোক্তির পাশাপাশি তদন্তে উঠে আসা অন্যান্য তথ্য ও প্রমাণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্ত মহিলাকে নাগপুরের বেলতারোদি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে আর কারা জড়িত ছিলেন এবং হামলার সম্পূর্ণ পরিকল্পনা কীভাবে করা হয়েছিল, তা জানতে তদন্ত চলছে।



