‘জেলই আপনার জায়গা’, রাজপাল যাদবকে সুপ্রিম কোর্টের কড়া ভর্ৎসনা

চেক বাউন্স মামলায় আদালতের নির্দেশ মেনে টাকা জমা না দেওয়ায় রাজপাল যাদবকে কড়া বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। অভিনেতাকে মঙ্গলবারের মধ্যে অর্থ জমা দেওয়ার শেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

চেক বাউন্সের মামলা থেকে এখনও রেহাই মিলল না অভিনেতা রাজপাল যাদবের। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী টাকা জমা না দেওয়ায় সোমবার সুপ্রিম কোর্টে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়লেন বলিউডের এই অভিনেতা। এমনকি শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, তাঁর ‘জেলেই থাকা উচিত’।

রাজপাল যাদবের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলাগুলির সূত্রপাত ২০১০ সালের একটি আর্থিক লেনদেন থেকে। ‘আতা পাতা লাপাতা’ ছবির জন্য দিল্লির সংস্থা মুরলি প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা নিয়েছিলেন অভিনেতা। ছবিটি প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যবসা না করায় সেই টাকা ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি চেক বাউন্সের মামলায় গড়ায়।

এই মামলায় দিল্লি হাই কোর্ট ১০ জুলাই রাজপাল যাদবের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় বহাল রাখে। সাতটি চেক বাউন্স মামলায় তাঁকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন অভিনেতা।

৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট শর্তসাপেক্ষে তাঁকে আত্মসমর্পণ থেকে সাময়িক ছাড় দিয়েছিল। শর্ত ছিল, আদালতের রেজিস্ট্রিতে ৫ কোটি টাকা জমা দিতে হবে। পরে ১৫ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে তাঁকে আরও দু’সপ্তাহ সময় দেওয়া হয় এবং ₹২ কোটি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সোমবার সেই নির্দেশ নিয়েই ফের শুনানি হয়। আদালত জানতে চায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ জমা পড়েছে কি না। রাজপাল যাদবের আইনজীবীর তরফে ₹৫০ লক্ষের একটি ডিমান্ড ড্রাফটের কথা জানানো হয়। সেটি ব্যাঙ্কে প্রক্রিয়াধীন বলেও আদালতকে জানানো হয়।

কিন্তু ওই ডিমান্ড ড্রাফটের সত্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলে বেঞ্চ। আদালতের পর্যবেক্ষণ, নথিটি আদৌ কার্যকর কি না, তা নিশ্চিত নয়।

‘জেলই আপনার জায়গা’, কড়া মন্তব্য আদালতের

এই পরিস্থিতিতে রাজপাল যাদবের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে শুনানি হয়।

বিচারপতি বাগচী বলেন, মামলাকারীরা হয়তো রাজপালের তুলনায় আর্থিক ভাবে সচ্ছল, কিন্তু তাঁদের যে পরিমাণ অর্থের ক্ষতি হয়েছে, সেটিও আদালতের বিবেচনায় রয়েছে। তাঁর মন্তব্য, রাজপালের এই আচরণের ‘সঠিক জায়গায়’ জবাব দেওয়া প্রয়োজন এবং তাঁর ‘জেলেই জায়গা’।

এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বরের শুনানিতেও রাজপালকে তাঁর আচরণ নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। আদালত বলেছিল, তিনি অভিনয়ে দক্ষ হলেও আদালতের নির্দেশ মানার বিষয়টি আলাদা।

তবে সোমবারই রাজপাল যাদবকে জেলে পাঠানোর চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। বরং তাঁকে আরও একটি শেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, মঙ্গলবারের মধ্যে নির্ধারিত অর্থ জমা দিতে হবে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি বুধবার রাখা হয়েছে।

অর্থাৎ, আপাতত রাজপালের সামনে আদালতের নির্দেশ মেনে বকেয়া অর্থ জমা দেওয়ার আরও একটি সুযোগ রয়েছে। সেই নির্দেশ পালন করা সম্ভব হয় কি না, বুধবারের শুনানিতে তারই প্রতিফলন দেখা যেতে পারে।

রাজপাল যাদবের প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে মুরলি প্রজেক্টসের আর্থিক লেনদেন থেকেই এই আইনি জটিলতার সূত্রপাত। ২০১০ সালে নেওয়া ঋণের অর্থ তাঁর পরিচালিত ‘আতা পাতা লাপাতা’ ছবির কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে মামলার নথি ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ছবিটি বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় ঋণ পরিশোধে সমস্যা হয়।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রথমে তাঁকে কারাদণ্ড দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে হাই কোর্টে সেই মামলার একাধিক ধাপ পেরিয়ে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছয়। হাই কোর্টের রায়ে সাতটি মামলায় তিন মাসের সাজা বহাল রাখা হয়েছিল এবং ইতিমধ্যে দেওয়া ₹২.২৫ কোটি টাকা হিসাবের মধ্যে সমন্বয়ের নির্দেশও ছিল।

এখন সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নতুন সময়সীমাই রাজপাল যাদবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত অর্থ জমা দেওয়া যায় কি না, নাকি ফের আদালতের কড়া পদক্ষেপের মুখে পড়তে হয়—সেদিকেই নজর রয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন