জ্ঞানেশ না সরলে, SIR বন্ধ না হলে ভোটে লড়াই অর্থহীন! ‘অনেক ফলই পূর্বনির্ধারিত’, বিস্ফোরক অভিজিৎ দীপকে

CEC জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং SIR বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অর্থ নেই বলে দাবি করলেন CJP প্রধান অভিজিৎ দীপকে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার পদে থাকলে এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা Special Intensive Revision (SIR) বন্ধ না হলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনও অর্থ নেই—এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রধান অভিজিৎ দীপকে। তাঁর অভিযোগ, দেশের একাধিক নির্বাচনের ফলাফল যেন ভোটের আগেই নির্ধারিত হয়ে যাচ্ছে। যদিও এগুলি দীপকের রাজনৈতিক দাবি; নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে তাঁর এই অভিযোগকে সমর্থন করে কোনও সিদ্ধান্তের কথা এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দীপকে বলেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এবং অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনও যুক্তি তিনি দেখছেন না। তাঁর দাবি, ভোটের ফল যদি আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে, তা হলে নির্বাচনে অংশ নেওয়া কার্যত সেই ব্যবস্থাকেই বৈধতা দেওয়া।

দীপকের বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে SIR। তাঁর দাবি, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ করলে এবং SIR ‘ফ্রিজ’ করা হলে তবেই বোঝা যাবে, বিজেপি বাস্তবে কতগুলি আসনে জয়ী হতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, এমন কিছু রাজ্যেও বিজেপি জয় পাচ্ছে যেখানে তথাকথিত ‘মোদী ঝড়’-এর সময়ও দলটি জিততে পারেনি। এই ফলাফলের পিছনে জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে দীপকের এই বক্তব্যকে অভিযোগ হিসাবেই দেখা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটে কারচুপি বা ফলাফল পূর্বনির্ধারিত থাকার মতো গুরুতর দাবির পক্ষে এই প্রতিবেদনে কোনও আদালতের চূড়ান্ত রায় বা প্রমাণ সামনে আসেনি। বরং নির্বাচন কমিশন আগে জানিয়েছে, SIR-এর সময়সূচি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মত ভাবেই নেওয়া হয়েছিল। কমিশনের বক্তব্য ছিল, সদস্যদের মধ্যে প্রশাসনিক বা কারিগরি পর্যায়ে প্রশ্ন, মতামত কিংবা পরামর্শ থাকাটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ।

জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক অবশ্য ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে একতরফা ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ তুলে দায়ের হওয়া মামলায় কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে নোটিস দিয়েছে শীর্ষ আদালত। একই সঙ্গে আদালত জানিয়েছে, কোনও সিদ্ধান্ত আইন মেনে নেওয়া হয়নি বলে প্রমাণিত হলে তা বাতিল করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই দীপকে ফের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর সমাজমাধ্যমে বিরোধী দলগুলির উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন—ভোটে কারচুপি হচ্ছে বলে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সেই নির্বাচনে অংশ নিলে তা কি সেই ব্যবস্থাকে বৈধতা দেওয়া নয়? তাঁর বক্তব্য ছিল, বিরোধী দলগুলি নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য এমন নির্বাচনে লড়ছে, কিন্তু একই সঙ্গে ভোটে কারচুপি এবং দল ভাঙানোর অভিযোগও তুলছে।

দীপকের এই অবস্থান অবশ্য সাধারণ নির্বাচনী রাজনীতির প্রচলিত কৌশলের থেকে আলাদা। যেখানে বিরোধী দলগুলি সাধারণত নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তুলেও ভোটের ময়দানে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়, সেখানে CJP প্রধান সরাসরি সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রথমে নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ভোটার তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে, তার পরেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্ন আসবে।

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং SIR বন্ধ করার দাবিতে এর আগেও আন্দোলনের ডাক দিয়েছে CJP। সংগঠনটির তরফে দেশজুড়ে প্রতিবাদের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে SIR এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা উচিত কি না, সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে আনছেন দীপকে।

এখন নজর থাকবে এক দিকে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে সুপ্রিম কোর্টে চলা মামলার পরবর্তী শুনানির দিকে, অন্য দিকে SIR নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। সেই দুই ক্ষেত্রেই কী সিদ্ধান্ত আসে, তার উপরই এই বিতর্কের পরবর্তী রাজনৈতিক গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন