উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় এক নাবালিকার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এলাকার এক যুবকের বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, ওই যুবক দীর্ঘদিন ধরে নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন করত এবং ছবি ও ভিডিয়ো দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করা হত। ঘটনার জেরে মানসিক চাপে পড়েই নাবালিকা আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি পরিবারের। যদিও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মাকে হারানোর পর ঠাকুমার কাছেই থাকত নাবালিকা। প্রায় এক বছর ধরে এলাকার এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় ও যোগাযোগ ছিল। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, দু’জনের মধ্যে সম্পর্কও তৈরি হয়েছিল।
পরিবারের অভিযোগ, কয়েক মাস আগে নাবালিকাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে অভিযুক্ত যুবক জোর করে শাখা-সিঁদুর পরিয়ে দেয়। এরপর একটি ঘরে আটকে রেখে তার উপর যৌন নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার ছবি ও ভিডিয়োও অভিযুক্তের কাছে ছিল বলে পরিবারের দাবি।
অভিযোগ, পরবর্তীতে ওই ছবি ও ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আনার ভয় দেখিয়ে নাবালিকাকে বারবার ব্ল্যাকমেল করা হত। পরিবারের আরও দাবি, অভিযুক্ত যুবকের মা-ও এই ঘটনায় তাকে সহযোগিতা করতেন। ছবি-ভিডিয়ো ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে নাবালিকাকে বারবার ডেকে নিয়ে যাওয়া হত বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই চাপ ও হয়রানির কারণে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিল নাবালিকা। শেষ পর্যন্ত সে চরম সিদ্ধান্ত নেয় বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের।
ঘটনার পর গাইঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে পরিবার।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগগুলির সত্যতা, ঘটনার সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং নাবালিকার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে। তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে।
নাবালিকার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।



