এক কোটি টাকা চাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তীর (Debraj Chakraborty) বিরুদ্ধে আরও এক ধাপ এগোল তদন্ত। টাকা না দেওয়ায় নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে শুক্রবার বারাসত আদালতে ২৫৬ পাতার সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দিল বাগুইআটি থানার পুলিশ। এর আগে আরও ন’টি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা পড়েছিল। এ দিনের চার্জশিটের পর মোট ১০টি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা হল।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিআইপি রোডের পাশে একটি খাবারের দোকান ভেঙে ফেলার পর সেখানকার লোহার সামগ্রী সরানোর কাজের বরাত পেয়েছিল একটি সংস্থা। অভিযোগ, সেই সংস্থার মালিকের কাছেই এক কোটি টাকা দাবি করেছিলেন তৎকালীন মেয়র পারিষদ দেবরাজ।
তদন্তকারীদের দাবি, ব্যবসায়ী দেবরাজের চাওয়া পুরো টাকা দিতে পারেননি। অভিযোগ, এরপরই লোহা সরানোর কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তৎকালীন সময়ে দেবরাজের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ব্যবসায়ী তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করার সাহস পাননি বলেও তদন্তে উঠে এসেছে বলে পুলিশ সূত্রের খবর।
পরবর্তী সময়ে দুর্নীতি সংক্রান্ত অন্য একটি মামলায় দেবরাজ গ্রেপ্তার হন। তিনি পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন ওই ব্যবসায়ী বাগুইআটি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি ছিল, কাজের বরাতের সঙ্গে যুক্ত করে তাঁর কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা চাওয়া হয়েছিল এবং সেই টাকা না দেওয়ায় কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করে বাগুইআটি থানার পুলিশ। তদন্তকারীরা সংশ্লিষ্ট নথি, লেনদেন এবং মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করেন। অভিযুক্তের বক্তব্যও রেকর্ড করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন দেবরাজ।
তদন্তের অগ্রগতির পর শুক্রবার বারাসত আদালতে ২৫৬ পাতার সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। এই নথিতে মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্য, নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
দেবরাজের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলায় চার্জশিট জমা দিয়েছিল পুলিশ। এখনও পর্যন্ত ন’টি মামলায় চার্জশিট পেশ করা হয়েছিল। এ দিনের সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটের ফলে মোট ১০টি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা পড়ল।
প্রাক্তন মেয়র পারিষদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা এবং পুলিশি তদন্তে নতুন তথ্য সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কোনও অভিযুক্তকেই দোষী বলা যায় না। এখন এই মামলায় আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর তদন্তকারী মহলের।



