জল্পনার অবসান। এবার আনুষ্ঠানিক ভাবেই ইন্ডিয়া জোটে শামিল হল থলপতি বিজয়ের দল তামিলগা ভেত্রি কাজাগম (TVK)। শনিবার চেন্নাইয়ে তামিলনাড়ুর ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে টিভিকে-র শীর্ষ নেতৃত্ব যোগ দেয়। সেই বৈঠকেই দলটিকে জোটের অংশ হিসেবে স্বাগত জানানো হয়। একই সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে বিরোধীদের আন্দোলনেও যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজয়ের দল।
শনিবার চেন্নাইয়ের সত্যমূর্তি ভবনে তামিলনাড়ু কংগ্রেসের দফতরে বসেছিল বিরোধী দলগুলির বৈঠক। সেখানে কংগ্রেস, টিভিকে, সিপিআইএম, সিপিআই, ভিসিকে, এমডিএমকে এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। টিভিকে-র তরফে বৈঠকে ছিলেন দলের দুই মন্ত্রী আধব অর্জুনা এবং মারিয়া উইলসন। বৈঠকটি দু’ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে।
বৈঠকের পর তামিলনাড়ু কংগ্রেসের সভাপতি বি মানিকম ঠাকোর বলেন, টিভিকে ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গে কাজ করতে এগিয়ে এসেছে। তাঁর বক্তব্য, বিজয়ের দলের যোগদানে তামিলনাড়ুতে বিরোধী জোট আরও শক্তিশালী হবে। টিভিকে-র প্রতিনিধিত্বকে তিনি ‘ঐতিহাসিক’ ঘটনা বলেও উল্লেখ করেন।
এই রাজনৈতিক সমীকরণে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আন্দোলনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব বিরোধীরা। তাঁদের অভিযোগ, SIR-এর নামে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য এই অভিযোগ মানেনি এবং প্রক্রিয়াটিকে আইনসম্মত বলেই জানিয়েছে।
জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে আগামী ৬ অক্টোবর দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে অভিযান করার কর্মসূচি রয়েছে ইন্ডিয়া জোটের সাংসদদের। তামিলনাড়ুতেও আন্দোলন আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৩ ও ১৪ অক্টোবর রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ এবং ১৫ অক্টোবর চেন্নাইয়ে বড় কর্মসূচি নেওয়ার কথা জানিয়েছে জোটের নেতারা।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। টিভিকে জোটে যোগ দিলেও বিজয় থলপতি নিজে ৬ অক্টোবরের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা এখনও ঘোষণা করেননি। সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, দলটি বিক্ষোভে অংশ নেবে বলে সিদ্ধান্ত হলেও বিজয় নিজে সরাসরি ওই কর্মসূচিতে থাকবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে ‘বিজয় নিজে জ্ঞানেশ-বিরোধী বিক্ষোভে থাকছেন’—এমন চূড়ান্ত দাবি করার সময় এখনও আসেনি।
টিভিকে-র এই সিদ্ধান্ত তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে অবশ্যই তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এত দিন বিজয়ের দল নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান আলাদা রেখেই এগোচ্ছিল। এবার প্রথম বার ইন্ডিয়া জোটের আনুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নিয়ে জোটের কর্মসূচিতে যুক্ত হল তারা। একই সময়ে ডিএমকে-র মতো গুরুত্বপূর্ণ তামিলনাড়ুর দল এই বৈঠকে ছিল না।
ডিএমকে ও আম আদমি পার্টি ইতিমধ্যেই ইন্ডিয়া জোটের বিভিন্ন কর্মসূচি থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে। বিশেষ করে কংগ্রেসের সঙ্গে রাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে দুই দলের অবস্থান নিয়ে টানাপোড়েন রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিজয়ের টিভিকে-র প্রবেশ বিরোধী জোটের কাছে নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক ভাবে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তামিলনাড়ুতে বিজয়ের জনপ্রিয়তা এবং তাঁর দলকে ঘিরে আগ্রহ ইতিমধ্যেই যথেষ্ট। ফলে SIR, নির্বাচন কমিশন এবং জ্ঞানেশ কুমারকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের আন্দোলনে টিভিকে সক্রিয় ভাবে যুক্ত হলে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে তার প্রভাব পড়তে পারে।
অর্থাৎ, ইন্ডিয়া জোটে টিভিকে-র আনুষ্ঠানিক প্রবেশ হয়ে গেল। এখন নজর ৬ অক্টোবরের নির্বাচন কমিশন অভিযান এবং ১৩-১৫ অক্টোবরের তামিলনাড়ুর কর্মসূচির দিকে। সেই কর্মসূচিতে বিজয় নিজে হাজির হন কি না, সেটিই হতে পারে পরবর্তী বড় রাজনৈতিক বার্তা।



