পাকিস্তানি মহিলার সাথে বন্ধুত্ব, দেশের নিরাপত্তা তথ্য পাচার, গ্রেফতার বাঙালি নৌসেনা কর্মী

পাকিস্তানি গোয়েন্দা এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগ উঠেছে বাঙালি নৌসেনা কর্মী প্রদীপ মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পাকিস্তানি গোয়েন্দা এজেন্টের হানিট্র্যাপে পা দিয়ে ভারতীয় নৌসেনার সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগ। এই অভিযোগে তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে এক বাঙালি নৌসেনা কর্মীকে। ধৃতের নাম প্রদীপ মুখোপাধ্যায়। অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল তাঁকে হেফাজতে নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, কয়েক মাস আগে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এক পাকিস্তানি মহিলা গোয়েন্দা এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল প্রদীপের। প্রথমে কথাবার্তা ও বন্ধুত্ব, পরে সেই যোগাযোগের মাধ্যমেই তাঁর কাছ থেকে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয় বলে দাবি তদন্তকারীদের।

প্রদীপের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ভারতীয় নৌসেনার সংবেদনশীল তথ্য পাচার করেছিলেন তিনি। তবে ঠিক কোন কোন তথ্য তাঁর মাধ্যমে বাইরে গিয়েছে, তা এখনও তদন্তাধীন।

তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রদীপ মুখোপাধ্যায় ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডের অধীনে বিশাখাপত্তনমে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় নৌঘাঁটির কৌশলগত সম্পদ, নৌবহরের গতিবিধি এবং অপারেশনাল ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য পাকিস্তানি গোয়েন্দা এজেন্টের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।

প্রদীপ ২০১৪ সালে নৌসেনার সোলজার পদে যোগ দিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘদিন নৌসেনায় কাজ করার সুবাদে তাঁর কাছে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের প্রবেশাধিকার ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

সম্প্রতি কোয়েম্বাটোরের রেড ফিল্ডসে INS Agrani-তে ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট কোর্সে যোগ দিতে গিয়েছিলেন প্রদীপ। সেখানেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্তকারীদের দাবি, প্রদীপের কিছু সন্দেহজনক ডিজিটাল গতিবিধি নজরে আসার পর অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল তাঁর উপর নজরদারি শুরু করে। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই তাঁর পাকিস্তানি গোয়েন্দা এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি সামনে আসে বলে জানা গিয়েছে।

এরপর কোয়েম্বাটোরে প্রশিক্ষণ চলাকালীন তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

এখন তদন্তকারীদের সামনে একাধিক প্রশ্ন। কতদিন ধরে প্রদীপের সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা এজেন্টের যোগাযোগ ছিল, ঠিক কী ধরনের তথ্য তাঁর কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে এবং সেই তথ্য কোথায় বা কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে—সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর পাশাপাশি এই যোগাযোগের বিনিময়ে কোনও আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তাঁর ব্যবহৃত ডিজিটাল ডিভাইস এবং যোগাযোগের মাধ্যমগুলি থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রদীপের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সবকটি দিককে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। গোটা ঘটনায় আরও কারও যোগ রয়েছে কি না, পাকিস্তানি গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ কতটা বিস্তৃত ছিল, সেসব প্রশ্নের উত্তরও তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন