নজরবন্দি ব্যুরোঃ শুরু হল নবান্ন অভিযান, বিজেপির নবান্ন অভিযান ঘিরে সকাল থেকেই উত্তেজনার পারদ চড়ছে রাজ্যে। বৃহস্পতিবার কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির কাছে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে আটক করা হয় বিজেপির তিন মহিলা কর্মীকে । অন্যদিকে নবান্ন অভিযানে যাওয়ার পথে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ডানকুনিতে আটকানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। বিজেপির অভিযোগ, আরামবাগ, ধনেখালি, বর্ধমানের বিভিন্ন জায়গা থেকে বাসে করে নবান্ন অভিযানে যাচ্ছিলেন তাঁরা।


কিন্তু ডানকুনিতে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়েতে তাদের কর্মীদের বাস থেকে নামিয়ে দেয় পুলিশ। তাঁদের অভিযোগ, তাদের হেঁটে যাওয়াতেও পুলিশ বাধা দেয়। পাশাপাশি তারা আরও অভিযোগ তুলেছেন, বিজেপি কর্মীদের নবান্ন যেতে না দেওয়ার জন্য আগে থেকেই দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের কলকাতা অভিমুখী রাস্তায় পরিকল্পিতভাবে যানজট তৈরি করা হয়েছে। এদিকে ,সাঁতরাগাছি থেকেও কথামত ইতিমধ্যেই মিছিলে নেমেছে বিজেপি । নবান্ন অভিযানে যাওয়ার পথে কাটোয়ার জেলা সম্পাদক সুদীপ্ত দা ও সুরজিৎ কর্মকারকে গ্রেফতার করল শ্রীরামপুর থানা।
রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতর নেতৃত্বে মিছিল শুরু হচ্ছে ধুলাগড় থেকে। রাজ্য সহ-সভাপতি রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মিছিল শুরু হচ্ছে ডানকুনি থেকে। গাড়ি এবং মিছিল আটকে দেওয়ায় মাঝ পথ থেকেই মিছিল শুরু করছে বিজেপি। সাঁতরাগাছি থেকে বহু বিজেপি নেতাদের গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। বিজেপির সহ-সভাপতি মুকুল রায় বলেন, “বিজেপির গাড়ি বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ আটকাচ্ছে। প্রশাসন নির্ভর হয়ে পড়েছে এই সরকার। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে যোগ দিতে বিজেপি কর্মীরা যাচ্ছে। আমরাও যাচ্ছি।
শুরু হল নবান্ন অভিযান, যেখানে আটকাবে আটকে যাব।” কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেন, “দুর্নীতিমুক্ত করতে পুরো রাজ্য সরকারের স্যানিটাইজেশন হোক। রাজ্য সরকার ঘাবড়ে গিয়েছে। বেহালা, ভবানীপুর, ডানকুনিতে বিজেপি কর্মীদের আটকেছে পুলিশ। লাঠিচার্জ করছে। তৃণমূল কার্যকর্তাদের মতো কাজ করছে পুলিশ। তৃণমূল সরকার ঘাবড়ে গিয়েছে। গণতন্ত্র বাঁচাও, বাংলা বাঁচাওয়ের দাবিতে এই আন্দোলন চলবে।” তাঁরা যাতে নবান্নের কাছে ঘেঁষতে না পারেন, তার জন্য পুলিশের প্রস্তুতি রয়েছে সর্বত্রই। নবান্নের চার পাশে ত্রিস্তরীয় বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। হাওড়া এবং কলকাতার বিভিন্ন রাস্তায় পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যারিকেড গড়ে তোলা হচ্ছে।


এসএসকেএম থেকে সাঁতরাগাছির দিকে বিভিন্ন রাস্তা বন্ধ রয়েছে। অন্য দিকে, হাওড়া ময়দান এবং সাঁতরাগাছি এলাকাতেও রাস্তা বন্ধ রেখে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। এ দিন সকালেই মুরলিধর সেন লেনে বিজেপির সদর দফতর থেকে মিছিলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছতে শুরু করেন। কর্মী সমর্থকরাও মিছিলের প্রস্তুতিতে অংশ নিয়েছেন । নিরাপত্তার কারণে প্রতিটি জায়গায় ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চলছে। বুধবার রাত থেকেই কলকাতা পুলিশ এবং হাওড়া পুলিশের তরফে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়েছে। আইন শৃঙ্খলার যাতে কোনোরকম অবনতি না হয়, তার জন্য কলকাতাতেই বিভিন্ন জায়গায় প্রায় চার হাজার পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এমনকি রাতের বেলায় রাস্তার ধারে জমা করে রাখা ইট-পাথরও সরিয়ে দেয় পুলিশ। কারণ অন্যান্য মিছিলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে আগেও। তাই অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, তাই এমন পদক্ষেপ করা হয়। এদিকে নবান্ন অভিযানের জেরে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পাটুলির কাছে ঢালাই ব্রিজে বিক্ষোভের জেরে ই এম বাইপাসে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সাঁতরাগাছি ব্রিজের উপর এই মুহূর্তে ব্যাপক যানজট রয়েছে।







