TET: প্রাথমিকে নজিরবিহীন দুর্নীতি, চাকরি হারাতে চলেছেন সাড়ে ১৭ হাজার কর্মরত শিক্ষক!

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ তদন্তে সিট গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের নজরদারিতে এই মামলার তদন্ত হবে। কিন্তু রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ডিভিশন বেঞ্চের দুয়ারে কড়া নাড়া হয়েছে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের ডিভিশন বেঞ্চে আগামী সোমবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই ২৬৯ জনের চাকরি চলে গিয়েছে প্রাথমিকে। যদিও জানা যাচ্ছে সেই সংখ্যা শুধুমাত্র হিমশৈলের চূড়ামাত্র।

আরও পড়ুনঃ একই পরিবারে ১৩ জনের চাকরি, পরেশের জুতোয় পা গলিয়েছিলেন পার্থও!

বুধবার প্রাথমিক শিক্ষক মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ মামলায় সিবিআই আধিকারিকদের নিয়ে এসআইটি গঠন করা হবে। বিচারপতির মন্তব্য, তিনি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সিবিআই এবং পর্ষদের রিপোর্ট দেখেছেন। এতে একেবারে স্পষ্ট, যে বেছে বেছে নিয়োগ হয়েছে। নিয়োগে যে দুর্নীতি হয়েছে, তা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের রিপোর্ট থেকে স্পষ্ট।

আরও পড়ুনঃ প্রকাশ্যে এল বাম আমলের ‘চাকরির চিরকুট’, রহস্যভেদে CBI-এর জায়গা নিল CPIM

প্রাথমিকে নজিরবিহীন দুর্নীতি, চাকরি হারাতে চলেছেন সাড়ে ১৭ হাজার কর্মরত শিক্ষক!
প্রাথমিকে নজিরবিহীন দুর্নীতি, চাকরি হারাতে চলেছেন সাড়ে ১৭ হাজার কর্মরত শিক্ষক!

প্রাথমিক রিপোর্ট দেখে মোট ২৬৯ জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। ২০১৪ সালের অফলাইনে যে টেট পরীক্ষা হয়েছিল সেখানে ২৭৩ জন অতিরিক্ত ১ নাম্বার করে পেয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে প্রাথমিকে রিপোর্টে। প্রশ্নপত্র ভুল থাকায় বাড়তি নম্বরের জন্যে আবেদন করেছিলেন ২৭৮৭ জন। সেখানেই দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও সূত্রের দাবি আসলে বেলাইনে নিয়োগ প্রাপ্তের সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। সেই মতো টেটের পরীক্ষা হয় ২০১৫ সালের ১১ অক্টোবর। ফলপ্রকাশ হয় ২০১৬-র সেপ্টেম্বরে। ওই বছরই প্রথম মেধাতালিকা প্রকাশ করে প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ। পরের বছর অর্থাৎ, ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর দ্বিতীয় বা অতিরিক্ত মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়। এই নিয়োগে প্রায় ২৩ লক্ষ চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তার মধ্যে ৪২ হাজার প্রার্থীকে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়।

প্রাথমিকে নজিরবিহীন দুর্নীতি, চাকরি হারাতে চলেছেন সাড়ে ১৭ হাজার কর্মরত শিক্ষক!

WB TET 647 2 0

বেআইনি ভাবে দ্বিতীয় প্যানেল প্রকাশ করার উদ্দেশ্য ছিল অতিরিক্ত প্রার্থীদের চাকরি পাইয়ে দেওয়া। ওই দ্বিতীয় তালিকা থেকে মোট ২৬৯ জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন বিচারপতি। এরপরেই আদালতের তত্বাবধানে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত। সূত্রের দাবি, সিবিআই তদন্ত হলে ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ৪২ হাজারের মধ্যে কমপক্ষে ১৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে বিপুল টাকার বিনিময়ে।

Calcutta highcourt 10

ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে মাকড়সার জালের মতো এই দুর্নীতি ছড়িয়ে রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। তাই নিয়োগ দুর্নীতিতে শুধুমাত্র পর্ষদের আধিকরিকরাই যুক্ত তা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত প্রভাবশালী নেতারা৷ যা বলেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী উপেন বিশ্বাসও। অসমর্থিত সূত্রের দাবি, এই মামলায় আরও বিপুল সংখ্যক কর্মরত শিক্ষক চাকরি হারাতে পারে। সেই সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার। যদিও বিজেপি শিক্ষা সেলের কনভেনার তথা পিটিটিআই আন্দোলনের নেতা পিন্টু পাড়ুইয়ের মতে ১৭ হাজার সংখ্যাটাও নাকি তেমন কোন পার্সেন্টেজই নয়!

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত