৭৮ ওভার, ১৫ উইকেট, ‘ফিট’ শামিকে কেন উপেক্ষা! শোনা যাচ্ছে মিস্টার আগারকার

রঞ্জিতে দুরন্ত পারফরম্যান্স সত্ত্বেও দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে সুযোগ পেলেন না মহম্মদ শামি। ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ‘লালা’র উপেক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে নির্বাচকদের ভূমিকা নিয়ে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রঞ্জি ট্রফিতে বল হাতে ফের আগুন ঝরাচ্ছেন মহম্মদ শামি। চোট কাটিয়ে ফিরে মাত্র দু’টি ম্যাচে ৭৮ ওভার বল করে নিয়েছেন ১৫ উইকেট, দিয়েছেন মাত্র ১৫৭ রান। তবুও দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে তাঁর নাম নেই ভারতীয় দলে। প্রশ্ন উঠছে— ফিটনেস ও ফর্মে সেরা অবস্থায় থেকেও কেন সুযোগ পাচ্ছেন না এই অভিজ্ঞ পেসার?

রঞ্জির মাঠে দেখা যাচ্ছে পুরনো ‘লালা’কে। তাঁর কোচ মহম্মদ বদরুদ্দিন বলছেন, “পুরানা লালা কো দেখ রহা হুঁ। ব্যাটাররা বুঝতেই পারছে না বল পড়ে কোন দিকে যাবে।” শামির ছন্দে ফেরা তাঁর কোচের চোখে স্পষ্ট। কিন্তু এই ছন্দ কি ভারতীয় নির্বাচকমণ্ডলীর চোখে পড়ছে?

৭৮ ওভার, ১৫ উইকেট— ফের শামির জ্বলে ওঠা

দু’টি ম্যাচে ১৮টি মেডেন ওভার, প্রতি ওভারে রান দিয়েছেন গড়ে মাত্র ২। রঞ্জি ট্রফির চলতি মরসুমে তৃতীয় সর্বাধিক উইকেটশিকারী তিনি। ৩৫ বছর বয়সেও তরুণদের সঙ্গে সমানে টক্কর দিচ্ছেন। প্রাক্তন নির্বাচক শরদিন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, “শামির ফিটনেস নিয়ে আর প্রশ্ন তোলার জায়গা নেই। এখনই ওকে দলে ফিরিয়ে নেওয়া উচিত।”

শরদিন্দুর মতে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেই শামির প্রত্যাবর্তন হওয়া উচিত ছিল। তাঁর ভাষায়, “ওর মতো ফিট বোলার খুব কম দেখা যায়। অর্ধেক ফিট শামিও প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পারে।”

‘পরীক্ষা’ উত্তীর্ণ, তবু জাতীয় দলে নয়

অজিত আগরকর ও গৌতম গম্ভীর স্পষ্ট জানিয়েছেন— চোট সারিয়ে কেউ সরাসরি জাতীয় দলে ঢুকতে পারবেন না। তাঁকে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিটনেস প্রমাণ করতে হবে। শামি ঠিক সেটাই করেছেন। তবুও ভারতীয় দলে তাঁর জায়গা হয়নি।

অস্ট্রেলিয়া সিরিজের সময় আগরকর জানিয়েছিলেন, শামির ফিটনেস নিয়ে “তথ্য তাঁদের কাছে নেই।” জবাবে শামির বক্তব্য ছিল, বোর্ড তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি, কিন্তু তিনি মাঠে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। তাঁর কথায়, “আমি ভাগ্যে বিশ্বাস করি। বাকিটা সময় বলবে।”

‘লালা’র ফিটনেস প্রমাণ মাঠে

শামির প্রধান শক্তি তাঁর ছন্দ। যত বেশি বল করেন, তত ফিট হয়ে ওঠেন। উত্তরপ্রদেশের আমরোহায় নিজের বাড়িতে বানানো পিচে তিনি নিয়মিত অনুশীলন করেন। তাঁর কোচ বদরুদ্দিন বলেন, “ওর সিম পজিশন দেখলেই বোঝা যায়, শামি পুরো ফিট। পুরনো ছন্দে ফিরেছে। এখনই ওকে দলে না নিলে অন্যায় হবে।”

বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্ল বলেন, “শামির কারও কাছে কিছু প্রমাণ করার নেই। প্রায় ৫০০ উইকেট নিয়েছে। এখনই ওকে ভারতীয় দলে ফেরানো উচিত।”

মনোজ তিওয়ারির ক্ষোভ

প্রাক্তন ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গম্ভীর-আগরকরদের লজ্জা পাওয়া উচিত। এক জন ৫০০ উইকেটধারী বোলারের সঙ্গে নতুন হর্ষিত রানার তুলনা করা যায় না।”

শামির সতীর্থ অনুষ্টুপ মজুমদারও বলেন, “শামি এত বছর ধরে দেশের হয়ে জিতিয়েছে। ফিটনেসে কোনও সমস্যা নেই। চোট সারিয়ে প্রায় ৩০০ ওভার বল করেছে। আরও কী প্রমাণ লাগবে?”

ভারতীয় দলে ফেরার পথে আর এক পরীক্ষা

দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের আগে শামির সামনে আর এক সুযোগ— ত্রিপুরার বিরুদ্ধে রঞ্জি ম্যাচ। সেখানেই হয়তো তাঁর ভাগ্য নির্ধারিত হবে। কোচ, সতীর্থ, বিশ্লেষক— সকলের এক সুর, “শামি ছন্দে ফিরেছেন, এখনই ওকে ফিরিয়ে আনতে হবে।” কিন্তু নির্বাচকমণ্ডলী কি এবার শুনবেন সেই সুর? নাকি আবারও ফিট শামিকে বেঞ্চে বসে দেখতে হবে?

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন