নজরবন্দি ব্যুরো: মিশরের মসজিদে মোদী! মার্কিন সফর শেষ করেই মিশরে যাবার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। শনিবার মিশরের রাজধানী কায়রোর ঐতিহ্যশালী আল-হাকিম মসজিদে পা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী। মসজিদটি প্রায় ১,০০০ হাজার বছরের পুরনো। আগামী বছর লোকসভা নির্বাচনের আগে মিশরের মসজিদে মোদীর এই হাজিরাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন: ধোনিহীনতায় ভুগছে ভারত! টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে হারের কারণ নিয়ে মুখ খুললেন অশ্বিন
মিশরের দাউদী বোহরা সম্প্রদায়ের মুসলিমদের সংখ্যা প্রচুর। আর দাউদী বোহরা মুসিলমরা মূলত শিয়া সম্প্রদায়ের একটি অংশ। ব্যবসা বাণিজ্যেই তাঁদের অন্যতম পেশা। তাঁদের সঙ্গে মোদীর সম্পর্ক অনেকদিনের। ভারতেও প্রায় ৫ লক্ষ বোহরা সম্প্রদায়ের মানুষ থাকেন। এর আগে মুম্বইতে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বোহরা সম্প্রদায়ের মাঝে গিয়েছিলেন মোদী। সেখানে তিনি উদ্বোধন করেন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যার নাম ‘আলদজামিয়া-তস-সইফিয়ার’।

বিজেপি দল সম্পর্কে সহজেই অনেকে যে অভিযোগটি দেগে দেন তা হল, এই দলটি সাম্প্রদায়িক, উগ্র হিন্দুত্ববাদী। অথচ গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীনও দাউদী বোহরা সম্প্রদায়ের মুসলিমদের সঙ্গে সখ্যতার সম্পর্কই বজায় রেখেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। তাঁর মতে, বোহরা সম্প্রদায় হল ‘দেশপ্রেমিক’, ‘আইনসচেতন’ এবং ‘শান্তিপ্রিয়’। বোহরা শব্দটি আবার গুজরাতী শব্দ ‘ভাহাউরাউ’ থেকে এসেছে, যার অর্থ ‘ব্যবসায়ী’। ভারতের গুজরাত, মহারাষ্ট্র, মধ্য প্রদেশ ও সুরাতেই মূলত তাঁদের বাস।

২০১১ সালে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হবার পর দাউদী বোহরাদের ধর্মীয় গুরু সৈয়দনা বুহরাউদ্দিনের ১০০তম জন্মদিন পালনেও অংশ নিয়েছিলেন মোদী। ২০১৪ সালে বুহরাউদ্দিনের মৃত্যুর পরও কিন্তু বোহরাদের সঙ্গে সম্পর্কে চিড় ধরেনি প্রধানমন্ত্রীর। আর একথাও সত্যি বোহরারাও বরাবর পাশে থেকেছে মোদী। আগামী বছর লোকসভা নির্বাচন। আর লোকসভা ভোটে জিততে প্রয়োজন দেশের আনাচে কানাচের সমস্ত সম্প্রদায়ের ভোট। সেই কারণেই কি তাহলে এই সময় মিশরের বোহরাদের মসজিদ ঘুরে এলেন মোদী? বাড়ছে জল্পনা।








