মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা, বাহরিন-সৌদি নেতৃত্বকে ফোন মোদির—শান্তির পক্ষে ভারতের জোরালো বার্তা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার আবহে সৌদি যুবরাজ ও বাহরিনের রাজার সঙ্গে কথা মোদির। হামলার নিন্দা জানিয়ে প্রবাসী ভারতীয়দের সুরক্ষায় জোর দিল দিল্লি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আবহে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াল নয়াদিল্লি। ইরান ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে উত্তেজনা তীব্র হওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলিতে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোমবার টেলিফোনে কথা বলেন বাহরিনের রাজা হামাদ বিন ঈসা আল খলিফা এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান-এর সঙ্গে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় উভয় দেশের উপর সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানান এবং দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরানোর পক্ষে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

 সৌদি যুবরাজের সঙ্গে আলোচনা

সোমবার রাতে সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে মোদি জানান, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে তাঁর বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

একইসঙ্গে এই কঠিন সময়ে সেখানে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সৌদি প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

বাহরিনের রাজার সঙ্গেও কথা

অন্য একটি বার্তায় প্রধানমন্ত্রী জানান, বাহরিনের উপর হামলারও নিন্দা জানিয়েছে ভারত। বাহরিনের রাজা হামাদ বিন ঈসা আল খলিফার সঙ্গে কথোপকথনে প্রবাসী ভারতীয়দের সুরক্ষা নিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মোদি এবং শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান।

ভারতের কূটনৈতিক কৌশল

কূটনৈতিক মহলের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান তিনটি মূল স্তম্ভে দাঁড়িয়ে—

  1. হামলার নিন্দা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান

  2. আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান

  3. প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার

উপসাগরীয় দেশগুলিতে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় কর্মরত। ফলে যে কোনও আঞ্চলিক সংঘাত সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে তাঁদের উপর। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, পরিস্থিতির উপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে জরুরি সহায়তা সক্রিয় রয়েছে।

শান্তির পক্ষে দিল্লি

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকা টানাপোড়েনের আবহে ভারত এক ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান নিচ্ছে। সরাসরি সংঘাতে জড়ানো নয়, বরং সংলাপ ও স্থিতিশীলতার পক্ষে জোর—এই বার্তাই স্পষ্ট।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর এই ধারাবাহিক ফোনালাপ ভারতের সক্রিয় কূটনৈতিক উপস্থিতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত