সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন সেরে সবে বিজেপির বিজয় সংকল্প সভায় এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, সামনের জনতা তখন ‘নমো’-র নাম ধরে উল্লাসে মেতেছে, তাঁদের দিকে দীর্ঘক্ষণ হাত নেড়ে চেয়ারে বসলেন প্রধানমন্ত্রী। ডান দিকে রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, তারও ডানদিকে কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি তথা বর্তমান বিজেপি নেতা অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। আর মোদীর বাঁ-দিকের চেয়ারে ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি প্রথমেই প্রধানমন্ত্রীর কানের কাছে গিয়ে কিছু বললেন। মোদী তাকালেন ডান দিকে। হাত বাড়ালেন। বোঝা গেল, উদ্দেশ্য অভিজৎ। প্রাক্তন বিচারপতিও করমর্দন করে মোদীর হাত কপালে ঠেকালেন। এভাবেই ৯ মার্চ শিলিগুড়িতে পরিচয় হল নরেন্দ্র মোদী ও অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের।
আরও পড়ুন: তৃণমূলের দুর্নীতি নিয়ে তো গোটা দেশে চর্চা হয়! শিলিগুড়িতে বাংলায় ভাষণ শুরু করে যা যা বললেন মোদী


এদিন প্রথম বারের জন্য রাজনৈতিক মঞ্চে বক্তব্য রাখলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। যদিও এদিন মোদী আসার আগেই বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন বিচারপতি। ডাক দিলেন, তৃণমূল সরকারকে উৎখাতের। বললেন, একটিও ভোট যেন ঘাসফুলে না যায় অর্থাৎ নো ভোট টু টিএমসি। বললেন, “এই সরকার দুর্নীতিগ্রস্থ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেই দুর্নীতি হয়েছে। আমি বিচারপতি থাকার সময় সেই প্রমাণ পেয়েছি। তৃণমূলের প্রথম সারির নেতারা এখন জেলে। তাই এদের একটিও ভোট দেবেন না। ৪২টি আসনের বিজপিকে জেতান আপনারা।”

একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আজও বহু চাকরিপ্রার্থী যাঁরা অনেক বেশি নম্বর অর্জন করেছেন তাঁদের চাকরি দেওয়া হয়নি। দেওয়া হয়েছে যাঁরা অনেক কম নম্বর পেয়ে বেশ কিছু টাকা দিয়ে চাকরিটা কিনেছেন তাঁদের। ফলে এই যে দুর্বৃত্তরা নিজেদের পকেটে টাকা ঢুকিয়েছে, নিজেদের দৌরাত্ম্যে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থাকে শেষ করে দেওয়ার রাস্তায় হেঁটেছেন।”



গত ৭ মার্চ শুভেন্দু-সুকান্তর হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করতে পারে গেরুয়া শিবির। ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিজিতকে টিকিট দিতে পারে বিজেপি। উঠে আসছে তমলুক কেন্দ্রের নামও।
ঘটক শুভেন্দু, পরিচয় হল মোদী-অভিজিতের, নমোর হাত কপালে ঠেকালেন প্রাক্তন বিচারপতি!
লোকসভা নির্বাচনের আগে বারংবার রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। আগের সভার মতো শিলিগুড়ির সভাতেও বাংলায় বক্তব্য রাখলেন নমো। এরপর ফের একবার রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুললেন নরেন্দ্র মোদী। বললেন, “দেশকে এগিয়ে নিতে যায় বিজেপি। উত্তরবঙ্গকে আমরা সবসময় প্রাধান্য দিয়ে থাকি। দিল্লি থেকে টাকা দেওয়া হচ্ছে, সেই টাকা তৃণমূলের তোলাবাজরা লুটে নিচ্ছে। উজ্জ্বলা যোজনায় ১৪ লক্ষ মানুষের টাকা আটকে দিয়েছে তৃণমূল। মনরেগার টাকার নাম করে ২৫ লক্ষ নকল ভুয়ো জব কার্ড তৈরি করেছে। একমাত্র বিজেপিই পারে উত্তরবঙ্গের উন্নতি করতে।”

পাশাপাশি মোদী আরও বলেন, “বিনামূল্যে রেশন দিতে বাধা দিচ্ছে তৃণমূল-কংগ্রেস-সিপিআইএম। এই ‘ইন্ডি’ জোট দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের জোট। অথচ বিজেপি সরকার বিকশিত ভারতের স্বপ্ন দেখে। সেই পথেই আমাদের লক্ষ্য। বাংলার সরকার উত্তরবঙ্গকে মর্যাদা দেয় না। তাই এখানে আমাদের এত সমর্থক। উত্তরবঙ্গে আসতে আমি ভালোবাসি।”








