তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন সাংগঠনিক রদবদল ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা। জেলা সভাপতি ও সাংগঠনিক দায়িত্ব বণ্টনের সাম্প্রতিক তালিকা প্রকাশের পর প্রশ্ন উঠছে, দল কি আবার পুরনো নেতৃত্বের উপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে? সেই সঙ্গে জল্পনা বাড়ছে, সাংগঠনিক ক্ষেত্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রভাব কি আগের তুলনায় কিছুটা সীমিত করা হচ্ছে?
দলের নতুন সাংগঠনিক কাঠামোয় একাধিক অভিজ্ঞ ও পুরনো নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কুণাল ঘোষ, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, শুভাশিস চক্রবর্তী, অসিত মজুমদার, রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, পুলক রায় এবং অজিত মাইতির মতো নেতাদের নতুন দায়িত্বে দেখা গিয়েছে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের মুখ্য উপদেষ্টা হিসেবেও ফিরিয়ে আনা হয়েছে জয়া দত্তকে।
বিশেষ নজর কেড়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন। আগে একাধিক সাংগঠনিক ভাগ থাকলেও এবার সেই বিভাজন তুলে দিয়ে একক নেতৃত্বের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। জেলা সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন শুভাশিস চক্রবর্তী। দলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতার উপর আস্থা প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই দলের জাতীয় কর্মসমিতি এবং রাজ্য কমিটির নতুন তালিকা ঘোষণা করা হয়। সেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল রাখা হলেও তাঁর সঙ্গে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেনকে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এর মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আরও সমষ্টিগত করার ইঙ্গিত মিলেছে।
নতুন কমিটিতে রাজ্য সভাপতি হয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন সাজদা আহমেদ, মমতা ঠাকুর, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও স্বাতী খন্দকার। পাশাপাশি রাজ্য সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাবর আলি, পুলক রায়, অসীমা পাত্র, অরূপ বিশ্বাস এবং রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।
দলীয় পুনর্গঠনের এই পর্যায়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে সমালোচনার প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। দলের একাংশের নেতারা প্রকাশ্যে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত, নেতৃত্বের ধরন এবং রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও এ বিষয়ে দলীয়ভাবে কোনও আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেতৃত্ব একদিকে অভিজ্ঞ সংগঠকদের সামনে আনছে, অন্যদিকে নতুন ও পুরনো নেতৃত্বের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। ফলে এটিকে শুধুমাত্র কোনও ব্যক্তির প্রভাব কমার ইঙ্গিত হিসেবে না দেখে, বৃহত্তর সাংগঠনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
তবে জেলা সংগঠনে পুরনো মুখদের প্রত্যাবর্তন এবং দায়িত্ব বণ্টনের নতুন মডেল যে দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার সমীকরণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। আগামী দিনে এই সাংগঠনিক পরিবর্তনের রাজনৈতিক প্রভাব কতটা পড়ে, এখন সেদিকেই নজর রাজ্য রাজনীতির।



