পাঁচ বছর পর আবার একই দৃশ্যের সাক্ষী থাকল রাইসিনা হিল। দেশের ক্ষমতা গেল এনডিএ জোটের হাতেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং নির্বাচিত ৭২ জন মন্ত্রী শপথ নিলেন ভারতীয় সংবিধান রক্ষার, একই সঙ্গে গণতন্ত্রকে অক্ষুণ্ণ রাখার। ৩০ জন পূর্ণমন্ত্রী, ৫ জন স্বতন্ত্র দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং ৩৬ জন রাজ্য প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন এই টিমে।
আরও পড়ুন: বাংলায় বিজেপির বিপর্যয়, দিল্লিতে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে বিস্ফোরক শুভেন্দু


উৎসবের মেজাজ দিল্লিতে। সেজে উঠেছে রাষ্ট্রপতি ভবন। সেখানেই সমস্ত আয়োজন। জহরলাল নেহেরুর পর আবার কেউ, যিনি ভারতের মসনদে তৃতীয়বার। নরেন্দ্র মোদী। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে শপথবাক্য পাঠ করলেন। একে একে আরও ৭২ জন। শরিক ১১ জন। বাকী বিজেপির। রাজনাথ সিংহ অমিত শাহ, নিতীন গড়কড়ি, নির্মলা সীতারমণ প্রমুখ বিজেপির রয়েছেন। এবারের সর্বকনিষ্ঠ সাংসদ টিডিপির কে রামমোহন নায়ডু। উল্লেখযোগ্যভাবে জেপি নাড্ডা শপথ নিলেন। অর্থাৎ ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ অনুযায়ী বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি পদে বদল আসাই কাম্য।

আজকের অনুষ্ঠানে দীর্ঘ অতিথি তালিকা। এসেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমসিঙ্ঘে, মলদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জু, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দহাল ওরফে প্রচণ্ড, মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী প্রবীন্দ জুগনাথ। শাহরুখ খান, রজনীকান্ত, অক্ষয় কুমারের মতো বলিউড তারকারাও আলোকিত করছেন মহল।
তবে, একটা খচখচানি বিজেপি শিবিরে থেকেই গেল। সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। শরিকের সমর্থন। চন্দ্রবাবু নায়ডূ ও নীতীশ কুমার সমর্থন জানিয়েছেন। কিন্তু সেটা আগামী পাঁচ বছর চলতে হবে। তাই যাবতীয় উৎসবের মধ্যেও একটা বিষাদের সুর তো রয়েছেই রাজধানীর আকাশে-বাতাসে। কে কোন মন্ত্রক পাবেন তা যেহেতু পরে জানানো হবে। শরিকরা কী পান আর বিজেপি কী তাঁদের হাতে রাখে বা পায় এখন সেদিকেই সকলের আগ্রহ।


মোদী এবং ৭২ জন, রাইসিনা থেকে ফের ক্ষমতায় NDA সরকার
কে কোন মন্ত্রকের দায়িত্ব পাবেন তা নিয়ে জল্পনা রয়েছে। শরিকদের ওপর নির্ভর হয়ে সরকার গঠনের কারণে এবার নরেন্দ্র মোদীকে বেশ কিছু আপোষ করতে হচ্ছে। জোট শরিকদের মধ্যে নীতীশ কুমার ও চন্দ্রবাবু নায়ডু একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দাবি রেখেছেন। সূত্রের খবর, স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, পরিবহন, অর্থ, শিক্ষার মতো মন্ত্রক নিজেদের হাতেই রাখতে চান মোদী।

সূত্রের খবর, শরিকদের মধ্যে চন্দ্রবাবুর দল টিডিপি থেকে পূর্ণমন্ত্রী হতে পারেন রামমোহন নায়ডু এবং চন্দ্রশেখর পেম্মাসানি। নীতীশের দল থেকে মন্ত্রী হতে পারেন লাল্লন সিংহ এবং সঞ্জয় ঝায়ের মধ্যে যে কোনও এক জন। মন্ত্রী হতে পারেন জেডিইউ-র রাজ্যসভার সাংসদ রামনাথ ঠাকুর। এলজেপি থেকে মন্ত্রী হতে পারেন প্রয়াত রামবিলাস পাসোয়ানের পুত্র চিরাগ। এর পাশাপাশি প্রাক্তন তিন মুখ্যমন্ত্রী এবার মোদীর মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিতে পারেন বলে খবর। তাঁরা হলেন, কর্ণাটকের বাসবরাজ বোম্মাই, মধ্যপ্রদেশের শিবরাজ সিংহ চৌহান এবং হরিয়ানার মনোহরলাল খট্টর।
৪০০ আসনের লক্ষ্য নিয়ে এবার যে প্রচার শুরু করেছিল বিজেপি তা কার্যত ফ্লপ প্রমাণিত। নিজেরা এককভাবে মাত্র ১৪০ আসন পেয়েছে পদ্ম-শিবির। ম্যাজিক ফিগার ২৭২। তা পার হয়েছে শরিকদের সমর্থন নিয়ে। সব মিলিয়ে এনডিএ জোট পেয়েছে ২৯২ আসন। অন্যদিকে, দারুণ কামব্যাক কংগ্রেসের। তাঁরা এককভাবে ৯৯ আসন পেলেও ‘ইন্ডিয়া’ জোট মোট ২৩২ আসন পেয়েছে সারা দেশ মিলিয়ে।







