নজরবন্দি ব্যুরোঃ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছবে ৪০ ডিগ্রিতে, গত ১৬ বছরে এই প্রথম কলকাতা (Kolkata) সহ দক্ষিণবঙ্গে চৈত্র-বৈশাখ মাসে কালবৈশাখী হল না। অসহ্য গরম থেকে এখনই নিস্তার নেই। আবহাওয়া দফতর বলছে, দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছুঁয়ে যাবে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলবে অসহ্য তাপপ্রবাহ। বৃষ্টির দেখা কবে মিলবে এখনই বলা মুশকিল। এমন অবস্থায় কোথাও বেরোনো তো দূর, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর ছাড়া বা়ড়ির ভিতরেও টেকা দায় হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ নিয়ম না মেনে ক্ষতিপূরণ দিয়েছে রাজ্য, বগটুইকাণ্ডে ফের মামলা হাইকোর্টে


এতটা অসহনীয় গরমে শরীর খারাপ হতেই পারে। বাইরে বেরোলে তীব্র তাপপ্রবাহে অসুস্থবোধ করতে পারেন অনেকেই। হিট স্ট্রোক (Heat stroke) হওয়ার সম্ভাবনাও থেকে যায়। তাই ডাক্তাররা অনেকেই পরামর্শ দিয়েছেন যে, রাস্তায় বেরোলে সাবধান। এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে সুস্থ রাখবেন কী ভাবে, তা জেনে রাখা প্রয়োজন।

জলটান, ডিহাইড্রেশন, রোদ থেকে শরীর শুকিয়ে যাওয়া এবং পেশিতে টান ধরা (হিট ক্র্যাম্প), একটুতেই হাঁপিয়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত ক্লান্তি (হিট ফ্যাটিগ) এবং হিট স্ট্রোক হতে পারে খুব বেশি তাপপ্রবাহে। কোন উপসর্গগুলি দেখলে সাবধান হবে?
হিট স্ট্রোকের উপসর্গ –


১) রোদে শরীর শুকিয়ে গেলে বা হিট ক্র্যাম্প হলে জ্ঞান হারাতে পারেন। পাশাপাশি ১০২ ডিগ্রির কাছাকাছি জ্বর আসতে পারে। শরীরে নানা জায়গা ফুলে যেতে পারে।
২) বারবার হাঁপিয়ে যাওয়া, খুব বেশি ঘাম হওয়া, বমি হওয়া বা বারবার বমি হওয়ার প্রবণতা তৈরি হওয়া বা মাথা ধরা রোদ থেকে অতিরিক্ত ক্লান্তি বা হিট ফ্যাটিগের লক্ষণ।
৩) হিট স্ট্রোক হলে শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রির কাছাকাছি চলে যেতে পারে। জ্ঞান হারিয়ে যাওয়া এর অন্যতম লক্ষণ। পরিস্থিতির অবনতি হলে রোগী কোমাতেও চলে যেতে পারেন বা মৃত্যুও হতে পারে।
সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছবে ৪০ ডিগ্রিতে, তাই হিট স্ট্রোক এড়াতে কী করতে হবে জানুন…

কী ভাবে সুরক্ষিত রাখবেন নিজেকে?
- পারলে দুপুর ১২টা থেকে ৩টের মধ্যে বাড়ির বাইরে বেরোবেন না। ঘরের ভিতরেই থেকে কাজ করুন। এই সময়ে রোদের তাপ সবচেয়ে বেশি থাকে।
- সারা দিন ধরে ঘন ঘন জল খান। শরীর শুকিয়ে যেতে দেবেন না।
- হালকা সুতির পোশাক পরুন যাতে ঘাম হলে তাড়াতা়ড়ি শুকিয়ে যায়। ঢাকা জুতোর বদলে খোলা চপ্পল পরুন।
- বাইরে বেরোলে রোদচশমা, ছাতা অবশ্যই সঙ্গে নেবেন। সূর্যের আলো সরাসরি গায়ে লাগতে দেবেন না। গা ঢাকা পোশাক পরবেন।
- সর্বাধিক তাপমাত্রার সময়ে শরীরচর্চা বা অতিরিক্ত ক্লান্তিকর কোনও রকম কাজ এড়িয়ে যাওয়াই ভাল। পরিশ্রমের কাজ দুপুর ১২টার আগে সেরে ফেলুন।
- অনেকেই বেজায় গরমে প্রচুর বিয়ার, সোডা বা নরম পানীয় খেয়ে ফেলেন। এতে ডিহাইড্রেশনের সম্ভাবনা বে়ড়ে যায়। চা বা কফিও খুব বেশি খাবেন না।
- তার বদলে ওআরএস, লেবুর জল, ঘোল বা লস্যি সারা দিনে খান। ছাতু বা বেলের শরবত বানিয়ে খেতে পারেন।







