ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড়। মালদহের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী মতিউর রহমান, যিনি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে হরিশ্চন্দ্রপুরে লড়ে দলকে দ্বিতীয় স্থানে তুলেছিলেন, তিনি এবার যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে। শনিবার কলকাতার তৃণমূল ভবনে রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হক-এর উপস্থিতিতে তিনি ঘাসফুল শিবিরে যোগ দেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, মালদহে তৃণমূলের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতেই এই যোগদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
মালদহ জেলায় ‘গরিবের বন্ধু’ হিসেবেই পরিচিত মতিউর রহমান। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত তিনি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে হরিশ্চন্দ্রপুর কেন্দ্র থেকে লড়ে কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটিতে দলকে ভোটের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে তুলে আনেন। সেই নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যের অন্যতম কারিগর ছিলেন বলেই রাজনৈতিক মহলে মত।


যোগদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, “হরিশ্চন্দ্রপুরে বিজেপি যে দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছেছিল, তা মূলত মতিউর রহমানের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার ফল। সাধারণ মানুষ তাঁকেই ভোট দিয়েছিলেন।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিবাদের কারণেই মতিউর তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হকও মতিউরের যোগদানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, “মতিউর রহমান একজন সফল ব্যবসায়ী এবং সমাজসেবী। তিনি নিয়মিত মেডিক্যাল ক্যাম্প আয়োজন করেন এবং গরিব মানুষের পাশে দাঁড়ান। তৃণমূলে যোগ দিয়ে তিনি মানুষের জন্য আরও বড় পরিসরে কাজ করতে পারবেন।”
তৃণমূলের পতাকা হাতে নেওয়ার পর নিজেও যোগদানের কারণ ব্যাখ্যা করেন মতিউর রহমান। তিনি বলেন, “আজ থেকে প্রায় ১৪-১৫ বছর আগে বাংলার পরিস্থিতি অন্যরকম ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যে উন্নয়ন হয়েছে। সেই উন্নয়নের কাজকে এগিয়ে নিতে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”


মতিউর আরও জানান, তিনি প্রায় এক বছর আগেই বিজেপির সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি ভাঙনের রাজনীতি করছে। তাই সেই দল ছেড়ে তিনি এমন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যোগ দিতে চেয়েছেন যেখানে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ বেশি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মালদহের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় মতিউর রহমানের তৃণমূলে যোগদান শাসক দলের সংগঠনকে আরও মজবুত করতে পারে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই যোগদানকে রাজনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।







