নজরবন্দি ব্যুরো: করমণ্ডল এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনা গোটা দেশে সাড়া ফেলে দিয়েছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কথা শুনলেই গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠছে। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে সেই কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে তবে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করা হবে। কিন্তু এখনও দুর্ঘটনা ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠে আসছে? যেমন- একই লাইনে তিনটে ট্রেন কীভাবে? সিগন্যালের ত্রুটির জেরেই এই দুর্ঘটনা? এসবের মাঝে আবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক দাবি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে বালেশ্বরে মমতা, রেলমন্ত্রীকে পাশে নিয়ে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা


রেল সূত্রে খবর, শুক্রবার রাতে চেন্নাইগামী করমণ্ডল এক্সপ্রেস শালিমার থেকে ছেড়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। সেটির দুটি কামরা লাইনচ্যূত হয়। এরপর পাশের লাইনে থাকা মালগাড়িতে ধাক্কা মারে। সেইসময়েই মাঝখান থেকে আসে হাওড়াগামী হামসফর এক্সপ্রেস। সেটি আবার করমণ্ডল এক্সপ্রেসের বগিগুলোকে ধাক্কা মারে। হামসফর এক্সপ্রেসের ২ টি বগি লাইনচ্যূত হয় এবং করমণ্ডল এক্সপ্রেসের ২০ টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এই দুর্ঘটনা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। প্রথমত, মালগাড়ির ইঞ্জিনকে কীভাবে ধাক্কা মারল করমণ্ডল এক্সপ্রেস? দ্বিতীয়ত, মালগাড়ি দাঁড়িয়েছিল লুপ লাইনে, সিগন্যালের ত্রুটি জেরেই কি দুর্ঘটনা?

এছাড়াও আরও অনেক প্রশ্ন উঠছে। যেমন- লুপলাইনে দাঁড়ানো মালগাড়ির ওপর করমণ্ডল উঠল কীভাবে? করমণ্ডল ও মালগাড়ি কি একলাইনে ছিল? হামসফর এক্সপ্রেস করমণ্ডলকে ধাক্কা মারলে, হামসফরের এত কম ক্ষতি কীভাবে? ন ওয়াকিটকিতে খবর দিলেন না গার্ড? খবর পেলেও আদৌ করমণ্ডলকে থামাতে পারতেন লোকো পাইলট? এইসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজ চলছে। গতকাল রাত থেকেই শুরু হয়েছে উদ্ধারকার্য। ওড়িশা সরকারের পাশাপাশি সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছেন শনিবার। সেখানে গিয়েই এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসেন তিনি।

দুই দফায় রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন বাংলার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। করমণ্ডল দুর্ঘটনায় রেলের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ তিনি। প্রশ্ন তুলেছেন মৃত্যু সংখ্যা নিয়ে। এদিন বালেশ্বরে রেলমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়েই মমতা অভিযোগ করেন, “ট্রেনের অ্যান্টি কলিশন ডিভাইস ছিল না। তাই এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে।” আরও বলেন, “আমি তিন বছর রেলমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছি। কিন্তু এখন মনে হয় রেলে নিজেদের মধ্যে কোনও কো-অর্ডিনেশন নেই। কীভাবে এমন ভয়ংকর ঘটনা ঘটল তার ভাল করে তদন্ত হোক।” যাত্রীদের মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি তো শুনেছি মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এখনও তিনটি কামরায় তল্লাশি বাকি। কিছু একটা তো হয়েছে। ভাল করে তদন্ত করতে হবে।”


একলাইনে ৩ ট্রেন কীভাবে? করমণ্ডল দুর্ঘটনা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন








