নজরবন্দি ব্যুরো: ওড়িশার বালেশ্বর যেন এক রাতেই মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। হু হু করে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এখনও পর্যন্ত ২৫০ জনের বেশি যাত্রীদের প্রাণ বলি হয়েছে। আহতের সংখ্যা বহু। দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে ইতিমধ্যেই বালেশ্বর পৌঁছে গিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে গিয়ে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেন তিনি। পাশাপাশি এই দুর্ঘটনায় রেলের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেল বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে।
আরও পড়ুন: মৃত্যুপুরী থেকে আহত যাত্রীদের নিয়ে হাওড়া ফিরছে স্পেশ্যাল ট্রেন
শনিবার সকালেই হাওড়ার ডুমুরজোলা হেলিপ্যাড থেকে রওনা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুপুর ১২.৩৫ নাগাদ হেলিকপটারে করে বালেশ্বর পৌঁছে যান। হেলিপ্যাডে নেমেই বিধায়কদের সঙ্গে দেখা করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সোজা চলে যান ঘটনাস্থলে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে দেখা করে বেশ কিছু কথা বলেন। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীকে পাশে নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন, “দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকাংশই বাংলার। বাংলা থেকে ওড়িশায় ৭০ টি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছে। ডাক্তার রয়েছেন ৪০ জন। মৃতদের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। ওড়িশা সরকার ও রেলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আমরা কাজ করব।”

করমণ্ডল এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনাটিকে ‘শতাব্দীর সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই রেলের ভূমিকা নিয়ে তোপ দাগতে দেখা যায় তাঁকে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি তিন বছর রেলমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছি। কিন্তু এখন মনে হয় রেলে নিজেদের মধ্যে কোনও কো-অর্ডিনেশন নেই। কীভাবে এমন ভয়ংকর ঘটনা ঘটল তার ভাল করে তদন্ত হোক।” এছাড়া, এই মুহূর্তে মৃতের সংখ্যা ২৬১ বলা হলেও তা পাঁচশো ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সবরকম সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার রাতে শালিমার-চেন্নাই এক্সপ্রেসের দুটি কামরা লাইনচ্যূত হয়। সেই কামরাতেই ধাক্কা মারে চেন্নাইগামী করমণ্ডল এক্সপ্রেস। এরপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি মালগাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। কামরাগুলি কার্যত বিধ্বস্ত হয়ে যায়। করমণ্ডল এক্সপ্রেসের ২০টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল রাতেই দুই প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছেন। আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও উদ্ধারকার্য এবং ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখতে বালেশ্বর আসবেন বলে জানা গিয়েছে।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে বালেশ্বরে মমতা, আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা




