নজরবন্দি ব্যুরো: শুক্রবারের রাত যে এমন অভিশপ্ত হয়ে উঠবে তা হয়তো কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। দুর্ঘটনার কবলে পড়ে করমণ্ডল এক্সপ্রেস। সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২৬১। আহতের সংখ্যা এক হাজারের কাছাকাছি। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক এবং কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছেন। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবেন। দুর্ঘটনার পর আটকে থাকা আহত যাত্রীদের উদ্ধার করতে একটি স্পেশ্যাল ট্রেন হাওড়া স্টেশন থেকে বালেশ্বরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। সেই ট্রেন শনিবার দুপুরে মৃত্যুপুরী থেকে ফিরছে। অল্প সময়ের মধ্যেই ট্রেনটি হাওড়ায় পৌঁছাবে বলে খবর।
আরও পড়ুন: বালেশ্বর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, খতিয়ে দেখবেন উদ্ধারকার্য, কি কি কর্মসূচি মোদীর?


জানা গিয়েছে, এদিন দুপুরেই স্পেশ্যাল ট্রেনটি আহত যাত্রীদের নিয়ে হাওড়া ঢুকবে। তাঁর পরপরই হাওড়ায় আসবে ক্ষতিগ্রস্ত জসবন্দপুর এক্সপ্রেস। যাত্রীদের হাওড়ায় পৌঁছানোর পর চিকিৎসার ক্ষেত্রে যাতে দেরি ন হয় সেজন্য একটি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রেলের তরফে ব্যবস্থা করা হয়েছে প্রচুর বাস ও অ্যাম্বুলেন্স। রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস হাওড়া স্টেশনে উপস্থিত থেকে সমস্ত ব্যবস্থার উপর নজর রাখছেন। রাজ্যের তরফেও খাবার, জল এবং ওষুধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আহত যাত্রীরা স্টেশনে নেমেই যাতে চিকিৎসা পায় তার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। ইতিমধ্যেই স্টেশনে মাইকিং শুরু হয়ে গিয়েছে। ভিড় বাড়ছে স্টেশন চত্বরে। স্পেশ্যাল ট্রেনটি যাত্রীদের নিয়ে হাওড়ার ৮ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ঢুকবে বলে খবর। যে সমস্ত যাত্রীরা করমণ্ডল এক্সপ্রেসে ছিলেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত হয়েছেন।

গতকাল দুর্ঘটনার খবর পেয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উদ্ধারকার্যে সমস্তরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি। সূত্রে খবর, আজ সকালেই দুর্ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন মোদী। প্রথমে বালেশ্বর যাবেন। সেখানে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন এবং উদ্ধারকাজ খতিয়ে দেখা হবে। এরপর চলে যাবেন কটক হাসপাতালে। দুর্ঘটনায় আহত বহু রেলযাত্রী ভর্তি রয়েছেন ওই হাসপাতালে। তাঁদের সঙ্গে দেখা করবেন প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার রাতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গতকালই ওড়িশায় প্রতিনিধি দল হিসেবে বালেশ্বর পৌঁছে গিয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন ও রাজ্যের মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। রাজ্যের তরফে দ্রুত সাহায্যের ব্যবস্থাও করা হয়। চিকিৎসায় যাতে কোনও কমতি না হয় সেকথা মাথায় রেখে চিকিৎসকদের একটি দল পাঠিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। তিনি নিজেও দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন।



উল্লেখ্য, শুক্রবার শালিমার-চেন্নাই এক্সপ্রেসের দুটি কামরা লাইনচ্যূত হয়। সেই কামরাতেই ধাক্কা মারে চেন্নাইগামী করমণ্ডল এক্সপ্রেস। এরপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি মালগাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। কামরাগুলি কার্যত বিধ্বস্ত হয়ে যায়। করমণ্ডল এক্সপ্রেসের ২০টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা প্রায় তিনশোর কাছাকাছি এবং আহতের সংখ্যা কমপক্ষে প্রায় এক হাজার। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা।
মৃত্যুপুরী থেকে আহত যাত্রীদের নিয়ে হাওড়া ফিরছে স্পেশ্যাল ট্রেন, প্রস্তুত মেডিক্যাল টিম








