সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসকে কেন্দ্র করে উত্তাল গোটা দেশ। এবার নিট পরীক্ষা বন্ধের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে আগের মত রাজ্যের হাতে পরীক্ষার দায়িত্ব তুলে দেবার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: বর্ষা প্রবেশ করল দক্ষিণবঙ্গে, উত্তরে দুর্যোগের আশঙ্কা, জারি সতর্কতা
এই চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে পক্ষপাতহীন তদন্তের দাবি তুলেছেন। তাঁর মতে, এর আগে যখন রাজ্যের হাতে পরীক্ষার দায়িত্ব ছিল, তখন তা মসৃণভাবে হয়েছে। বর্তমান পরীক্ষা পদ্ধতি দুর্নীতির জন্ম দিয়েছে বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। অন্যদিকে, নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আজ সংসদে মুলতুবি প্রস্তাব জমা দেবে তৃণমূল। এই বিষয় নিয়ে আলোচনার দাবি জানিয়েছেন লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।



এবার নিট পরীক্ষা দেন মোট ২০,৮৭,৪৬২ জন। ফলপ্রকাশের পর দেখা গেল, প্রথম স্থান অধিকার করেছেন ৬৭ জন। আর প্রত্যেকেই ফুলমার্কস। অর্থাৎ, ৭২০-তে ৭২০! তদন্তে জানা যাচ্ছে, ২০-৩০ লাখ টাকায় ডাক্তারি পরীক্ষার প্রশ্ন বিক্রি হয়েছে। শুধু তাই নয়, রীতোমতো প্রশিক্ষণ দিয়ে পরীক্ষার্থীদের তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল।
যদিও, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) জানিয়েছে, ভুল প্রশ্নের জন্য এবং কয়েক জন প্রার্থীকে ‘গ্রেস মার্ক’ দেওয়ার কারণেই নম্বর বেড়েছে। নিটের প্রশ্নফাঁস নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে বিহারের আর্থিক দুর্নীতি দমন শাখা (ইএইউ)। সুপ্রিম কোর্টে চলছে মামলা। কাউন্সিলিং বন্ধ করতে বলেনি শীর্ষ আদালত। এদিকে আবার দেশের নানান প্রান্তে, দিল্লিতে তো বটেই, নিট পরীক্ষা বাতিলের দাবি উঠেছে।
NEET বন্ধের দাবিতে মোদিকে চিঠি মমতার, রাজ্যের হাতে আবার পরীক্ষা ফেরানোর আর্জি!



তবে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেছেন, ২০০৪ ও ২০১৫ সালে ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষায় ব্যাপক দুর্নীতি হওয়ায় পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু এবার দুর্নীতির পরিমাণ ততটাও নয়। পরীক্ষা বাতিল করলে লাখ লাখ ‘সৎ’ পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। আজ সংসদে নিট এবং নেট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে কেন্দ্র সরকারের জবাবদিহি চাইছেন বিরোধীরা।








