আমফানের ‘চাল চুরি’র দাগ মেটাতে, এবার ‘দুয়ারে ত্রাণ’ পাঠাবেন মমতা

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ আমফানের ‘চাল চুরি’ দাগ মেটাতে এবার রাশ নিজের হাতে রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুরু থেকেই বলেছিলেন কসর ছাড়বেন না কোথাও। আমফান থেকে শিক্ষা নিয়ে সবদিক থেকে রুখে দাঁড়াবেন ইয়াসের দুর্যোগে। ঝড় প্রতিরোধে মমতা এবং তার সরকারের প্রশংসা করছে সব পক্ষই। সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ববোধে উচ্ছসিত খোদ রাজ্যপাল।

আরও পড়ুনঃ শ্বাসকষ্ট অনুব্রতর! অ্যাম্বুলেন্সে বোলপুর থেকে কলকাতা আনা হচ্ছে কেষ্টদা কে

তবে শুধু ঝড় প্রতিরোধ নয়, ত্রাণ বন্টনের রাশও নিজের হাতেই রাখছেন মমতা। আমফানের সময় বিতর্ক হয়েছিল প্রবল। বামেরা ২১ এর নির্বাচনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছিল বেকারত্ব আর আমফানের চাল চুরি ত্রিপল চুরিকে। আমফানের বিপর্যয়ের পর ঘরবাড়ি সংস্কারের জন্য সে বার ২০ হাজার টাকা করে দিয়েছিল সরকার। কিন্তু  বহু জায়গায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা সেই সুবিধা পায়নি। তবে ইয়াস কালে সেই লুঠের দাগ আর লাগাতে চাননা মুখ্যমন্ত্রী। দিন রাত এক করে নবান্নের কন্ট্রোল রুমে বসে পরিস্থিতি দেখেছেন। আগামীকাল থেকে যাচ্ছেন সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখতে।

ইতিমধ্যেই প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট সংগ্রহ করার জন্য নিজে ফোন করে নির্দেশ দিয়েছেন। প্লাবনের কারণ সহ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণের হিসেব চেয়েছেন ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই। ইয়াসের প্রভাবে দিঘা সহ মেদিনীপুরের ব্যাপক এলাকা জুড়ে সমুদ্রের জল ঢুকে যাওয়া থেকে বাঁধ ভাঙা সব রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রী দিঘা পরিদর্শনে যাওয়ার আগেই নবান্নতে পাঠানোর ব্যবস্থা করছেন অখিল গিরি। সব মিলিয়ে তৎপরতায় সম্পন্ন করতে চাইছেন মমতা সব কাজ।

আজ বৈঠকে মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ১.১৬ লক্ষ হেক্টর কৃষিজমির ক্ষতি হয়েছে। যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০০০ কোটি টাকা। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী ইয়াসের প্রভাবে রাজ্যে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই মুহুর্তে মানুষের ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি বরাদ্দ করেছেন ১ হাজার কোটি টাকা।

আমফানের ‘চাল চুরি’ দাগ মেটাতে এবার ‘দুয়ারে ত্রাণ’ পাঠাবেন মমতা। সাফ জানিয়েছেন রাশ নিজের হাতে রেখেই এবার দুয়ারে ত্রাণ পৌঁছে দেবেন তিনি। কাজের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আজ সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী,  ‘আগামী ৩ থেকে ১৮ জুন ‘দুয়ারে ত্রাণ’ শিবিরে ক্ষতিগ্রস্তদের আবেদন নেওয়া হবে। এবার আর কারও মাধ্যমে নয়, যিনি ক্ষতিগ্রস্ত, তিনি সরাসরিই আবেদন করবেন। যতটুকু ক্ষতি হয়েছে ততটুকুই বলবেন। ১৯ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সেই আবেদনগুলি খতিয়ে দেখা হবে।

তারপর ১ থেকে ৮ জুলাইয়ের মধ্যে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তরা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এই টাকা পেয়ে যাবেন।’ সঙ্গে আমফানের সময়ের কিছু কাজকেও খতিয়েদেখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রসঙ্গত ইয়াস মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রীর উচ্ছসিত প্রশংসার পাশাপাশি ত্রাণ কার্যের বন্টনেও লক্ষ্য রাখতে বলেছিলেন তিনি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন