নজরবন্দি ব্যুরো: আজ কন্যাশ্রী দিবস। সেই উপলক্ষ্যে আলিপুরের ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত করা হয় একটি বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, ব্রাত্য বসু, শশী পাঁজা সহ রাজ্যের একাধিক নেতামন্ত্রী। কন্যাশ্রীর মঞ্চে বক্তৃতা করতে গিয়ে কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের লেখা দুটি কবিতাও এদিন পাঠ করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: ইন্দিরা ফেলোশিপ! মহিলাদের রাজনীতিতে উৎসাহ দিতে বিশেষ পদক্ষেপ কংগ্রেসের


সোমবার আলিপুরের ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কন্যাশ্রীর মাধ্যমে বাংলার মেয়েদের জীবন আজ সুরক্ষিত। আজ কন্যাশ্রী একটি ব্র্যান্ড। আমি বিশ্বাস করি। কন্যাশ্রী দিবস সারা দেশে এক দিন ওয়ার্ল্ড গার্ল চাইল্ড ডে হিসেবে পালিত হবে। কন্যাশ্রীর লোগো গরিব মেয়ের ছবিকে নিয়েকে তৈরি করি। কন্যাশ্রীর গানটিও আমার লেখা এবং লোপামুদ্রার গাওয়া। অনেক ছাত্রী রয়েছে যারা পড়াশোনায় ভালো। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অবস্থা নেই। তাঁরা ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ পান না। সেই কারণেই আমরা স্টুডেন্টস ক্রেডিট কার্ড চালু করেছি, যাতে পড়াশোনার জন্য ১০ লক্ষ টাকা করে ঋণ পাওয়া যায়”। এরপর নিজের লেখা ‘কবিতাবিতান’ বই থেকে ‘আমার ঠিকানা’ এবং ‘মাটির ঘর’ নামের দুটি কবিতা পাঠ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
I am delighted to commemorate Kanyashree Dibas, a day that exemplifies our steadfast commitment to empowering female students.
Over the past 10 years, Kanyashree has transformed the lives of more than 81 lakh young women by providing education and financial support, regardless…
Related Newsরবীন্দ্রনাথ: বাঙালির ধ্রুবতারা, সময় পেরিয়েও যিনি চিরকালীনমুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, বিরোধী দলনেত্রী মমতা? ফের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মুখোমুখি গুরু শিষ্য!— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) August 14, 2023
মঙ্গলবারই আবার দেশের স্বাধীনতা দিবস। সেই কারণে এদিন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের অনেকখানি অংশ জুড়েই ছিল দেশের স্বাধীনতায় বাংলার ভূমিকা বিশ্লেষণ। তিনি বলেন, “স্বাধীনতার যুদ্ধ, স্বাধীনতার লড়াই সবটাই কিন্তু বাংলা থেকে হয়েছিল। কোনও দিন যদি আন্দামান নিকোবর জেলে যাও, দেখবে যত নাম আছে, তার মধ্যে ৯০ শতাংশ নাম আছে বাংলার। আর বাদবাকি পঞ্জাবের। সুতরাং বাংলা যে স্বাধীনতার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিল, সেটা নতুন করে বলার প্রয়োজন লাগে না”।
তিনি আরও যোগ করেন, “বাংলার সংস্কৃতি, বাংলার মেধা এগিয়ে চলুক। কেউ যেন থামাতে না পারে। বাংলাকে যেন কেউ চমক দেখাতে না পারে। বাংলাকে আমরা চমক দেখাব, উন্নয়নের সঙ্গে। বাংলাকে ধমকানি নয়, চমকানি নয়। বাংলা আমার কাছে আমার ঘর। আমার ঘর, মায়ের শাড়ির আঁচল, আম্মার শাড়ির আঁচল। হিন্দু, মুসলিম, শিখ, সবাই একসঙ্গে থাকবে। বাংলা সংহতির এক প্রধান কেন্দ্র”।

বক্তব্যের একদম শেষাংশ কিছুটা রাজনৈতিক বাঁক নেয়। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে নাম না করে কেন্দ্র সরকারকে বলেন, “বাংলাকে চমকানো ধমকানো যানে না”। ‘জয় বাংলা, জয় ইন্ডিয়া’ বলে স্লোগান দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের মঞ্চে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের কৃতিত্বের জন্য পুরষ্কৃত করা হয় ৩৯ জন কন্যাশ্রীকে। পেন, ছাতা, হাতঘড়ি এবং উৎসাহ ভাতা হিসেবে প্রত্যেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।
চলতি বছরে কন্যাশ্রী প্রকল্পে সেরা জেলার শিরোপা পেয়েছে হুগলি। দ্বিতীয় হাওড়া, তৃতীয় পূর্ব মেদিনীপুর জেলা। বিশেষ পুরষ্কার পেয়েছে উত্তর ২৪ পরগণা ও নদিয়া জেলা। কলকাতার আদর্শ বালিকা শিক্ষায়তন, বাগবাজার মাল্টিপারপাস গার্লস এবং গঙ্গাপুরী শিক্ষাসদন ফর গালর্স স্কুল কর্তৃপক্ষের হাতে কন্যাশ্রীর নিরিখে সেরা স্কুল হিসেবে যথাক্রমে তুলে দেওয়া হয় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরষ্কার। একইভাবে পুরষ্কৃত করা হয় দীনবন্ধু অ্যান্ডুজ কলেজ, মহারানি কাশীশ্বরী কলেজ এবং শিবনাথ শাস্ত্রী কলেজকে।

কন্যাশ্রীর মঞ্চে আবেগপ্রবণ মমতা, নিজের লেখা কবিতা পাঠ মুখ্যমন্ত্রীর










