নজরবন্দি ব্যুরোঃ তিন দফায় তাঁদের আন্দোলনের সময়সীমা ৪০০ দিন পার করেছে। তবুও সরকারের বঞ্চনার কথা তুলে ধরেই আন্দোলন জারি রেখেছিলেন হবু শিক্ষকরা। অবশেষে খুশির খবর, মঙ্গলবার ঈদের দিনে রেড রোডে সরকারী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে অনতিদুরে অন্যান্য দিনের মতো এদিনেও বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছিলেন আন্দোলনকারীরা। সেখানেই ফোন যায় মুখ্যমন্ত্রীর। নিজেই নিয়োগের বিষয়টি দেখবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন চাকরী প্রার্থীদের।
আরও পড়ুনঃ কুণালের থেকেও একধাপ এগিয়ে অপরূপা, জানালেন ২৪ এ মমতা প্রধানমন্ত্রী


এদিন আন্দোলনকারীদের তরফে জানানো হয়েছে, এদিন সকালেই ডিসি সাউথ আকাশ বাগারিয়ার ফোন মারফত কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজেই বলেন, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে চান। এরপর আন্দোলনকারীদের তরফে মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে, যারা প্যানেলে রয়েছে তাঁদের প্রতি মানবিক হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যাতে দ্রুত সমস্যার সমাধান হয় সেই বার্তা দিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী হবু শিক্ষকদের প্রতি আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন, তোমাদের বিষয়টা আমি নিজেই দেখছি। নিয়োগের ব্যবস্থা করছি। এবিষয়ে শিক্ষা দফতরের সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছন মুখ্যমন্ত্রী। তবে এত সহজে আন্দোলনস্থল ছেড়ে যেতে নারাজ আন্দোলনকারী হবু শিক্ষকরা। তাঁদের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে আশার আলো দেখছেন। তবে নোটিশ না পাওয়া অবধি আতঙ্কে থাকব। ধর্নামঞ্চ থেকেই নিয়োগের নোটিশ নিয়ে যেতে চান তাঁরা।
হবু শিক্ষকদের বক্তব্য,প্রথম দফায় ডাক পেলেও স্কুল সার্ভিস কমিশন নম্বর ভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করেনি৷ ১:১.৪ অনুপাতে নিয়োগের গেজেটকে লঙ্ঘন করা হয়েছে। মেধাতালিকায় সামনের দিকে নাম থাকলেও নিয়োগ পাননি বহু প্রার্থী। বরং তালিকায় নাম জুড়েছে মেধা তালিকায় পিছনে থাকা প্রার্থীদের৷ অভিযোগ, অবৈধভাবে নিয়োগ করা হয়েছে।


এই অভিযোগে২০১৯ সালের মার্চ মাসে প্রেস ক্লাবের সামনে ২৯ দিন ধরে অনশন কর্মসুচি চালিয়ে যাচ্ছিলেন হবু শিক্ষকরা। সেখানে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ২০১৯ এর নির্বাচনের পরেই নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
সেই অভিযোগ তুলে বঞ্চিত শিক্ষক পদপ্রার্থীদের তিন বার বৃহত্তম অবস্থান বিক্ষোভ ও অনশন করতে হয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে প্রেসক্লাবের সামনে ২৯ দিনের অনশন, ২০২১সালের জানুয়ারি থেকে সেন্ট্রাল পার্কের ৫ নম্বর গেটের সামনে ১৮৭ দিনের অবস্থান বিক্ষোভ ও অনশন।
অবশেষে খুশির খবর, ডিসি সাউথ মারফত কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী

এরপর গত বছরের ৮ ই অক্টোবর থেকে ধর্মতলার গান্ধী মূর্তির পাদদেশে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ধর্ণা। মোট ৩ দফায় ৪১০ দিনে পড়ল হবু শিক্ষকদের আন্দোলন। এবার মুখ্যমন্ত্রীর তরফে আশ্বাস মিলতেই বেজায় খুশি তাঁরা।







