ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR ঘিরে সংঘাত আরও তীব্র। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ফের বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত ‘ভুলভাল’ কাজ হচ্ছে—জীবিত মানুষকে মৃত দেখানো হচ্ছে, বয়স্ক নাগরিকদের হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে, এমনকি যে অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে তা নাকি বিজেপির আইটি সেল দিয়ে তৈরি। মুখ্যমন্ত্রীর কণ্ঠে এই গোটা প্রক্রিয়াই ‘অবৈধ, অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক’।
মঙ্গলবার গঙ্গাসাগর থেকে ফেরার পথে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজেই এসআইআর প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করে তিনি বলেন,
“ভুলভাল কাজ করছে কমিশন। জীবিতদের মৃত দেখাচ্ছে। বয়স্ক মানুষদের নাকে নল পরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আর যে অ্যাপ বানিয়েছে, তা বিজেপির আইটি সেল দিয়ে। এসবই অবৈধ, অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক।”


এসআইআর প্রক্রিয়ায় একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ইতিমধ্যেই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তৃতীয়বার চিঠি পাঠিয়েছেন মমতা। সোমবার গঙ্গাসাগর থেকেই তিনি স্পষ্ট জানান, এই ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে আরও কড়া সুর ধরা পড়ে। সোমবার তিনি বলেন,
“আমরাও আইনের সাহায্য নিচ্ছি। মঙ্গলবার আদালত খুলছে। আমরাও কোর্টে যাব। এত মানুষের মৃত্যু দেখানো হচ্ছে, এত মানুষকে যেভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে আদালতে যাব।”
এখানেই থামেননি তিনি। প্রয়োজনে নিজেই শীর্ষ আদালতে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের হয়ে সওয়াল করার ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়,
“প্রয়োজন হলে নিজেও অনুমতি চাইব। দরকার পড়লে আমি সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে মানুষের হয়ে প্লিড করব। আমি আইনজীবী, কিন্তু আইনজীবী হিসেবে নয়—একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে যাব। মানুষের হয়ে কথা বলব। চোখে আঙুল দিয়ে দেখাব, তৃণমূল স্তরে কী চলছে, কীভাবে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে।”


এসআইআর ঘিরে এই লাগাতার অভিযোগ ও আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারিতে রাজ্য–নির্বাচন কমিশন সম্পর্ক ফের একবার কার্যত সংঘাতের পথে—এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।







