দেশের অর্থনীতিতে চাপ কমাতে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেশবাসীর কাছে এক বছরের জন্য সোনা না কেনার আর্জির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত—সোনা ও রুপোর উপর আমদানি শুল্ক এক ধাক্কায় ৯ শতাংশ বাড়ানো হল। ফলে বাজারে এই দুই মূল্যবান ধাতুর দাম দ্রুত বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোনা ও রুপোর আমদানিতে মোট শুল্ক বেড়ে দাঁড়াল ১৫ শতাংশ। আগে যেখানে ৬ শতাংশ শুল্ক ছিল, সেখানে এখন ১০ শতাংশ বেসিক কাস্টম ডিউটি ও ৫ শতাংশ কৃষি পরিকাঠামো ও উন্নয়ন সেস মিলিয়ে এই বৃদ্ধি কার্যকর হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বাজারে—দাম বাড়বে সোনা-রুপোর, বাড়বে ক্রেতাদের খরচও।
কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য আমদানি নিয়ন্ত্রণ। ভারতের মতো দেশে, যেখানে সোনার চাহিদা বিপুল, সেখানে আমদানির উপর নির্ভরতা অত্যন্ত বেশি। প্রতি বছর ৭০০ থেকে ৮০০ টন সোনা কেনা হলেও দেশের নিজস্ব উৎপাদন মাত্র ১-২ টন। অর্থাৎ, প্রায় ৯০ শতাংশ সোনা বিদেশ থেকেই আনতে হয়, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার উপর বড় চাপ সৃষ্টি করে।
সম্প্রতি বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডারে বড় ধস দেখা গিয়েছে। মে মাসের শুরুতেই রিজার্ভ কমেছে প্রায় ৭৭৯ কোটি মার্কিন ডলার। এই পরিস্থিতিতে আমদানি কমানোই এখন কেন্দ্রের প্রধান লক্ষ্য। সোনা আমদানিতে রাশ টানতে পারলে বাণিজ্য ঘাটতি কমবে এবং ডলারের তুলনায় টাকার পতনও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে—এমনটাই মনে করছে সরকার।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও এই সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা নিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় চলা সংঘাতের কারণে তেলের দাম বেড়েছে, যার ফলে আমদানির খরচ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সোনা আমদানি সীমিত করা কেন্দ্রের কাছে এখন কৌশলগত সিদ্ধান্ত।
সোমবার প্রধানমন্ত্রী মোদী দেশবাসীর কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন, অন্তত এক বছরের জন্য যেন সোনা কেনা থেকে বিরত থাকেন। তাঁর মতে, এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার রক্ষা পাবে। সেই আহ্বানের পরই কেন্দ্রের এই দ্রুত পদক্ষেপ অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



