সোনা কেনা বন্ধ করুন, জ্বালানি-ভোজ্য তেলের ব্যবহার কমান, ওয়ার্ক ফ্রম হোম করুন! সংকটের বার্তা মোদীর

জ্বালানি, ভোজ্য তেল ও সোনার ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি আবার ওয়ার্ক ফ্রম হোমে ফেরার আহ্বান মোদীর, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে দেশবাসীকে সংযমের বার্তা

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে দেশবাসীর কাছে কঠোর সংযমের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার চাপের কথা তুলে ধরে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন—জ্বালানি ব্যবহার কমাতে হবে, ভোজ্য তেলের খরচ কমাতে হবে, এক বছরের জন্য সোনার গয়না কেনা বন্ধ রাখতে হবে, এমনকি আবার ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এ ফিরে যেতে হবে দেশের স্বার্থে।

রবিবার তেলঙ্গানার সেকেন্দরাবাদে এক জনসভা থেকে মোদী বলেন, বিশ্বজুড়ে যে অস্থিরতা চলছে তার প্রভাব ভারতের উপর সরাসরি পড়ছে। পেট্রল-ডিজেল, গ্যাস, ভোজ্য তেল, সার—এই সব প্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য ভারত এখনও আমদানির উপর অনেকটাই নির্ভরশীল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেই তার চাপ পড়ে দেশের অর্থনীতিতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডারে।

এই পরিস্থিতিতে তিনি দেশবাসীর কাছে ‘দায়িত্বশীল নাগরিক’-এর ভূমিকা পালনের আবেদন জানান। তাঁর বক্তব্য, দেশপ্রেম শুধু আত্মত্যাগে নয়, দৈনন্দিন জীবনে সংযম ও সচেতনতার মধ্যেও প্রকাশ পায়। সেই কারণেই তিনি একাধিক ক্ষেত্রেই খরচ কমানোর পরামর্শ দেন।

জ্বালানির ব্যবহার কমাতে নাগরিকদের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন মোদী। তিনি বলেন, যেখানে সম্ভব সেখানে ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে মেট্রো বা গণপরিবহণ ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে ‘কারপুল’ পদ্ধতিতে একাধিক ব্যক্তি একসঙ্গে যাতায়াত করতে পারেন। পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রেও রেল ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানোর উপর জোর দেন তিনি। যাঁদের বৈদ্যুতিক গাড়ি রয়েছে, তাঁদের তা বেশি ব্যবহার করার পরামর্শও দেন।

করোনা অতিমারির সময় চালু হওয়া ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ মডেলকে আবার গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, অফিসে যাতায়াত কমলে জ্বালানি খরচ কমবে, ফলে বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপও কিছুটা কমবে। অনলাইন মিটিং ও ভার্চুয়াল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় করার আহ্বান জানান তিনি।

ভোজ্য তেলের ব্যবহার কমানোর প্রসঙ্গেও সরব হন মোদী। তিনি পরিবার পিছু অন্তত ১০ শতাংশ তেল কম ব্যবহারের আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এতে যেমন দেশের অর্থনীতি উপকৃত হবে, তেমনই স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা ছিল সোনার গয়না কেনা নিয়ে। তিনি বলেন, আগামী এক বছর কোনও অনুষ্ঠান থাকলেও সোনার গয়না কেনা থেকে বিরত থাকা উচিত। এতে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে তিনি অতীতে সংকটের সময়ে দেশের জন্য সোনা দানের ঐতিহ্যের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন।

কৃষিক্ষেত্রেও সংযমের বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। রাসায়নিক সারের ব্যবহার ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি। প্রাকৃতিক কৃষির দিকে ঝোঁক বাড়ানোর উপর জোর দেন, যাতে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা পায় এবং আমদানি নির্ভরতা কমে।

এছাড়াও, আগামী এক বছর বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত রাখার অনুরোধ করেন মোদী। তাঁর বক্তব্য, দেশের মধ্যেই পর্যটনের প্রচুর সুযোগ রয়েছে, সেগুলিকে কাজে লাগানো উচিত। এতে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং দেশীয় অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে।

সব মিলিয়ে, বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে দেশের অর্থনীতি সুরক্ষিত রাখতে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—এই বার্তাই স্পষ্ট করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত