নতুন সরকারের সূচনাতেই বার্তা স্পষ্ট—দ্রুত সিদ্ধান্ত, সরাসরি প্রশাসনিক নজরদারি। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম কর্মদিবসেই নবান্নে টানা তিনটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করছেন শুভেন্দু অধিকারী, সঙ্গে বসছে প্রথম মন্ত্রীসভা। রাজ্যের ‘নবনির্মাণ’-এর রূপরেখা তৈরির সূচনা হতে চলেছে এই বৈঠকগুলির মাধ্যমেই—এমনটাই মনে করছে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহল।
শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকারের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় সোমবারই প্রথম কর্মদিবসে নবান্নে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে চান নতুন মুখ্যমন্ত্রী। বেলা ১২টায় তাঁর নেতৃত্বে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক হওয়ার কথা, যেখানে দপ্তর বণ্টন ও প্রাথমিক নীতিনির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
শপথের দিনই কাজ শুরু করে দিয়েছিলেন শুভেন্দু। ধর্মতলায় পূর্ত দফতরের অস্থায়ী শিবিরে রাজ্যের শীর্ষ আমলাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা, স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত। রাজ্যের সামগ্রিক প্রশাসনিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকের পরই পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে ফিরে যান তিনি এবং রবিবার সেখানেই সময় কাটিয়ে সন্ধ্যায় কলকাতায় ফেরেন।
প্রথম দিনেই অ্যাকশনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! নবান্নে মন্ত্রিসভা, টানা ৩ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

সোমবার নবান্নে তাঁর ব্যস্ত সূচি—প্রথমে শীর্ষ আমলাদের নিয়ে একটি প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক। এরপর দুপুরে জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে, যেখানে জেলার উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হবে। বিকেলে রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তিনি। সেখানে ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন জ়োনের শীর্ষ পুলিশ কর্তারা উপস্থিত থাকতে পারেন।
এর আগেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হয়েছে নবান্নে। রবিবার কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ ও হাওড়ার পুলিশ কমিশনার অখিলেশ চতুর্বেদীর নেতৃত্বে বিস্তৃত নিরাপত্তা পর্যালোচনা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের স্থান, প্রবেশ ও নির্গমন পথ, নজরদারি ব্যবস্থা—সবকিছুই খুঁটিয়ে দেখা হয়েছে। পরে সভাঘরেই নিরাপত্তা নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও করেন পুলিশ আধিকারিকরা।
নতুন মন্ত্রিসভায় ইতিমধ্যেই শপথ নিয়েছেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনীয়া , ক্ষুদিরাম টুডু এবং নিশীথ প্রামাণিক। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব রেখেই মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। তবে এখনও দপ্তর বণ্টন হয়নি এবং বাকি সদস্যদের শপথগ্রহণও বাকি রয়েছে।
শপথের পরই ‘নবনির্মাণ’-এর ডাক দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, রাজ্যের বহু ক্ষেত্রে অবনতি হয়েছে, তাই এখন প্রয়োজন সম্মিলিত প্রয়াসে পুনর্গঠন। রাজনৈতিক সমালোচনার সময় নয়, বরং কাজের সময়—এই বার্তাই দিতে চান তিনি।
এই পরিস্থিতিতে নবান্নে প্রথম দিনের বৈঠকগুলোয় কী বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে।



