শপথের দিনেই বড় সিদ্ধান্ত! ফ্রি বিদ্যুৎ, মাদকবিরোধী টাস্ক ফোর্স, নারীসুরক্ষায় বিশেষ বাহিনী ঘোষণা বিজয়ের

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম দিনেই তিন বড় সিদ্ধান্ত—২০০ ইউনিট ফ্রি বিদ্যুৎ, মাদকবিরোধী টাস্ক ফোর্স ও নারীসুরক্ষায় বিশেষ বাহিনী ঘোষণা করে প্রশাসনের অগ্রাধিকার স্পষ্ট করলেন বিজয়

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েই প্রথম দিনেই বড় বার্তা দিলেন ‘তলপতি’ বিজয়। বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, মাদক দমনে বিশেষ টাস্ক ফোর্স এবং নারী সুরক্ষায় আলাদা বাহিনী—এই তিনটি অগ্রাধিকারের উপর ভিত্তি করেই তাঁর সরকারের প্রথম নির্দেশিকা জারি হয়েছে, যা রাজ্যের প্রশাসনিক দিকনির্দেশ স্পষ্ট করে দিয়েছে।

রবিবার চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়ামে শপথ নেন তামিলাগা ভেট্টি কাজ়াগম (টিভিকে)-এর প্রধান চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয়। শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি সরকারি প্রথম সিদ্ধান্তে সই করেন। সেই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, রাজ্যের সাধারণ মানুষকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। পাশাপাশি মাদক সমস্যার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নারীদের নিরাপত্তা জোরদার করতে গড়ে তোলা হবে পৃথক বাহিনী, চালু হবে একটি বিশেষ হেল্পলাইন নম্বরও।

শপথের দিনেই বড় সিদ্ধান্ত! ফ্রি বিদ্যুৎ, মাদকবিরোধী টাস্ক ফোর্স, নারীসুরক্ষায় বিশেষ বাহিনী ঘোষণা বিজয়ের

শপথের দিনেই বড় সিদ্ধান্ত! ফ্রি বিদ্যুৎ, মাদকবিরোধী টাস্ক ফোর্স, নারীসুরক্ষায় বিশেষ বাহিনী ঘোষণা বিজয়ের

প্রথম দিনের ঘোষণার মধ্যেই প্রশাসনের অগ্রাধিকার স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিজয়। শপথের পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পানীয় জলের মতো মৌলিক পরিষেবায় তাঁর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দেবে। একই সঙ্গে কৃষক ও মৎস্যজীবীদের স্বার্থ রক্ষার আশ্বাসও দেন তিনি।

নিজের রাজনৈতিক যাত্রার প্রসঙ্গ টেনে বিজয় বলেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক পরিবার থেকে উঠে আসেননি। জীবনের কঠিন বাস্তবতা, দারিদ্র এবং সংগ্রামের অভিজ্ঞতা তাঁকে সাধারণ মানুষের সমস্যার কাছাকাছি এনে দিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি রাজ্যের উন্নয়ন করতে চান বলে জানান।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের নেতৃত্বাধীন ডিএমকে সরকারের কড়া সমালোচনাও করেন বিজয়। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে রাজ্যের আর্থিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং বিপুল ঋণের বোঝা তৈরি হয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, তাঁর সরকার আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখবে এবং সরকারি অর্থ অপচয় বা অপব্যবহার হতে দেবে না।

তবে রাজনৈতিক সমীকরণ সহজ ছিল না। ২৩৪ আসনের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮টি আসন। বিজয়ের দল টিভিকে পেয়েছে ১০৮টি আসন, যা এককভাবে সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট নয়। বিজয় নিজে দুটি আসনে জয়ী হলেও কার্যত দলের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৭। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস, সিপিএম, সিপিআই-সহ একাধিক দলের সমর্থনেই সরকার গঠন সম্ভব হয়েছে।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং বাম নেতৃত্বের শীর্ষ নেতারাও। নতুন সরকারের শুরুতেই যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে—বিজয়ের নেতৃত্বে তামিলনাড়ুতে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত