রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড়—তৃণমূলের সাসপেন্ডেড মুখপাত্র কোহিনুর মজুমদার সরাসরি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করে দাবি করলেন, আরজি কর আন্দোলনের উত্তাল সময়ে ভিতর থেকেই সরকারকে চাপে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, আর সেই অভিযোগ ঘিরেই চড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিপর্যয়ের আবহে কোহিনুরের এই মন্তব্যকে অনেকেই শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ক্ষোভ হিসেবে দেখছেন না, বরং দলীয় অন্দরের গভীর টানাপোড়েনের বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে করছেন। তাঁর বক্তব্য, গত কয়েক বছরে তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠনগত চরিত্রে বড়সড় পরিবর্তন এসেছে—যে দল একসময় তৃণমূল স্তরের মানুষের জন্য কাজ করত, তা এখন অনেকটাই কেন্দ্রীভূত ও নিয়ন্ত্রিত কাঠামোয় পরিণত হয়েছে।


কোহিনুরের দাবি, এই পরিবর্তনের মূল কারিগর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, দলের পুরনো সংস্কৃতি ও বর্তমান কার্যপদ্ধতির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য তৈরি হয়েছে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর আস্থাই এই ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতার কারণ হয়ে উঠেছে।
দলীয় কাঠামোর ভিতরে প্রবেশাধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। কোহিনুরের কথায়, একসময় দলীয় কার্যালয়ে কর্মীদের অবাধ যাতায়াত ছিল, কিন্তু এখন সাধারণ কর্মীদের পক্ষে শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছনো অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। অভিযোগ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াও ক্রমশ সীমিত কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি তিনি তুলেছেন আরজি কর আন্দোলনকে ঘিরে। কোহিনুরের দাবি, রাজ্যজুড়ে যখন পরিস্থিতি উত্তপ্ত, তখনই দলের ভিতর থেকে রাজনৈতিকভাবে সরকারকে অস্থির করার চেষ্টা হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগের কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।


এছাড়া তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি আলাদা ঘটনার প্রতিবাদে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার পর তা সরিয়ে নেওয়ার জন্য তাঁর উপর চাপ তৈরি করা হয়েছিল। এতে দলীয় ভিন্নমতকে দমন করার প্রবণতা রয়েছে বলেই তিনি ইঙ্গিত দেন।
দলীয় আর্থিক লেনদেন নিয়েও সরব হয়েছেন কোহিনুর। তাঁর বক্তব্য, নিম্নস্তরের ছোটখাটো অর্থ লেনদেনকে বড় করে দেখানো হলেও, উচ্চস্তরে প্রার্থী নির্বাচন বা পদ পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের টাকার লেনদেন নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলে না। এই প্রক্রিয়াকেই তিনি সংগঠনের জন্য বিপজ্জনক বলে মনে করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোহিনুর মজুমদারের এই ধারাবাহিক অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে আরজি কর ইস্যুতে ‘অন্তর্ঘাত’-এর অভিযোগ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এখন নজর ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের দিকে—এই অভিযোগগুলির জবাব কীভাবে দেওয়া হয় এবং আদৌ কোনও সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, সেটাই দেখার।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



