নজরবন্দি ব্যুরো: হরে কৃষ্ণ হরে রাম, বিদায় যাও বিজেপি-বাম! এভাবেই পরশুড়ার সভা থেকে বাম বিজেপিকে একযোগে আক্রমন শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। আজ হুগলীর পরশুড়ায় জনসভা করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল কাণ্ডের পর এই প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচি তাঁর। এদিকে হুগলীতে ‘বেসুরো’ তৃণমূল বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল দলের অভ্যন্তরে অস্বস্তি বাড়িয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ তৃণমূল বনাম বিজেপি, ফের রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত নন্দীগ্রাম।


এদিন মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেন, গাছ থেকে পড়ে গিয়ে কেউ নেতা হয় না। সভার শুরুতেই তিনি খোঁজ করেন দলের বুথকর্মীদের। জানিয়ে দেন, তাঁরাই দলের সম্পদ, কারও নাম না তুললেও তাঁর দল থেকে শুভেন্দু অধিকারী সহ একাধিক নেতার শিবির বদলে বিজেপিতে যোগদানের পাল্টা তাঁর এই মন্তব্য বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন তৃণমূল সরকারের বিভিন্ন কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২কোটি স্কলারশিপ দেওয়া হয়েছে। জুন অবধি ফ্রি রেশন পাবেন। এমনকি আগামী দিনেও ফ্কারি রেশনের প্ররকল্প চালু থাকবে পাবেন না। তিনি জানিয়ে দেন, বিজেপির মতো মিথ্যে প্রতিশ্রুতি না। আমরা দিচ্ছি দেব, আমরাই ছিলাম, আমরাই থাকব।
পরশুরায় সর্বধর্ম সহিষ্ণুতার বার্তা দেন মমতার। তিনি বলেন, পুরশুড়ায় সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে রয়েছেন। তিনি জানান, কোভিড আবহে আমরা ১ বছর কোনও কাজ করতে পারিনি। আগামী দিন পরশুড়া খানাকুলে আর বন্যা হবে না। বাঁধ তৈরি হবে। কাজ হচ্ছে। আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে শেষ হবে। তৃণমূল সরকারের কাজের প্রশংশা করে তিনি বলেন, অনেক কাজ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৮ বছর পেয়েছি। ৮ বছরে কী না হয়নি। ১৫ লক্ষ মানুষের জন্য বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা পেয়েছেন।


রেলমন্ত্রী থাকা কালীন তারকেশ্বর আরামবাগ রেলপথ তৈরী করার কথা মনে করিয়ে তিনি জানান, পরবর্তী কালে বিষ্ণুপুর পর্যন্তও কাজ হয়ে যাবে। স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে তিনি বলেন, একটা দুটো জায়গায় যাঁরা স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নেবে না, তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানান, নম্বর দেওয়া রয়েছে কার্ডের পিছনে। সেখানে জানান।
দলবদলুদের নিশানা করে মমতা বলেন, চোরগুলো যাচ্ছে। আর বিজেপির ওয়াসিং মেশিং-এ সাদা হয়ে যাচ্ছে। পরিষ্কার ভাষায় তিনি বলেন, এরপর তৃণমূলে আসতে চেও না। আমরা আর নেব না। যাঁরা যাঁরা লাইন দিয়ে আছেন তাড়াতাড়ি চলে যান, ওদের পায়ে গিয়ে পড়ুন। যাঁরা মানুষের জন্য কাজ করেছে শুধু তাঁরাই টিকিট পাবেন।
হরে কৃষ্ণ হরে রাম, বিদায় যাও বিজেপি-বাম! একসুরে বাম বিজেপি কে এভাবেই আক্রমন শানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, হরে কৃষ্ণ হরে রাম, বিদায় যাও বিজেপি-বাম। কৃষ্ণ কষ্ণ হরে হরে, তৃণমূল ঘরে ঘরে।







