করোনা প্রতিরোধে চাই পুষ্টি। রোগী পিছু দৈনিক ১৭৫ টাকা খাওয়ার খাতে বরাদ্দ মমতার।

করোনা প্রতিরোধে চাই পুষ্টি। রোগী পিছু দৈনিক ১৭৫ টাকা খাওয়ার খাতে বরাদ্দ মমতার।

নজরবন্দি ব্যুরো: করোনা প্রতিরোধে চাই পুষ্টি। রোগী পিছু দৈনিক ১৭৫ টাকা খাওয়ার খাতে বরাদ্দ মুখ্যমন্ত্রীর। রাজ্যে করোনা চিকিৎসা কেন্দ্রে রোগীদের খাবারের মান পরিমাণ এবং খরচ নির্দিষ্ট করে দিল মমতা সরকার। মঙ্গলবার এই নিয়ে নির্দেশিকা জারি করল স্বাস্থ্য ভবন। যাতে বলা হয়েছে প্রতিদিন মাথাপিছু খাবার খরচ করতে হবে ১৭৫ টাকা।

আরও পড়ুনঃ ভাতা নয় চাকরি চাই। হয় চাকরি নয় স্বেচ্ছামৃত্যু। হুঁশিয়ারি রাজ্যের লাখো যুবশ্রীর।

এছাড়াও নির্দেশিকায় প্রতিদিনের খাদ্য তালিকা ও পুষ্টির পরিমাণও বলে দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত করোনা শুরুর পর থেকেই খাবার নিয়ে অভিযোগ আসছিলো বার বার। খাবার নিম্নমানের ও পুষ্টির ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ আসতে থাকে সরকারের কাছে। তারপরই গত জুন এ স্বাস্থ্য ভবন প্রথম বিজ্ঞপ্তি জারি করে মাথাপিছু রোজ ১৫০ টাকা খরচের নির্দেশ দেয়।

এছাড়া জুন মাসে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে বলে দেওয়া হয়েছিল, রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজে করোনা রোগীদের ব্রেকফাস্টে থাকবে ৪টি রুটি, একটি করে ডিম, কলা, দুধ। দুপুরের খাবারে ভাত থাকবে পরিমাণ মতো, অন্তত ১০০ গ্রাম চালের। সঙ্গে ডাল অন্তত ৫০ গ্রাম থাকবে, মাছ বা মাংসের ওজন ৯০ থেকে ১০০ গ্রাম হবে, দই দিতে হবে রোজ।

করোনা প্রতিরোধে চাই পুষ্টি। রাতে রুটি অথবা ভাত রোগী যেটা পছন্দ করবেন এবং তার সঙ্গে ডাল, সব্জি, মাছ দেওয়া হবে বলে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দিয়ে। সেই সঙ্গে দেওয়া হতো প্যাকেটজাত নানা খাবার ও পানীয়ও।সেই নিয়ম মেনেই খাবার পাচ্ছিলেন রোগীরা। কিন্তু মনে করা হচ্ছে, অসন্তোষ থেকে গেছিল তার পরেও। বহু জায়গায় করোনা রোগীর খাবারের মাণ ও পরিমাণ নিয়ে অভিযোগ তুলছিলেন। তাই ফেল এল নতুন সূচি। খাবারের পরিমাণ বাড়িয়ে ১৭৫ টাকা মূল্যের করা হল।

এবার নতুন বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিদিন সকালে চা এবং দুটি করে বিস্কুট দিতে হবে রোগীদের। ব্রেকফাস্টে দিতে হবে চারটি রুটি, একটি ডিমসেদ্ধ, একটি কলা এবং ২৫০ এমএল দুধ। দুপুরে ভাল চালের ভাত দিতে হবে ১৫০ গ্রাম, ৫০ গ্রাম ডাল, ৮০ বা ৯০ গ্রাম ওজনের মাংসের পিস, ১০০ গ্রাম মরসুমি আনাজের তরকারি, ১০০ গ্রাম দই। সন্ধেয় চা এবং দুটি বিস্কুট দিতে হবে, রাতে দিতে হবে ১০০ গ্রামের ভাত বা সমপরিমাণ রুটি, ৫০ গ্রাম ডাল, ১০০ গ্রাম ওজনের মাছ বা মাংসের পিস, ৭৫ গ্রাম তরকারি।

নিরামিষাসীদের জন্যও করা হয়েছে তালিকা। তাঁদের জন্য বাকি সব এক থাকলেও মাছ বা মাংসের বদলে ৮০-৯০ গ্রাম ওজনের পনির বা মাশরুম বা রাজমার ডাল এসব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর সকালের ডিমের বদলে তাঁরা অতিরিক্ত দুধ খাবেন। ২৫০ এমএল-এর বদলে ৩৫০ এমএল।করোনা রোগীদের পুষ্টির দিকটি বিশেষ জরুরি বলে প্রথম থেকেই জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

নইলে দুর্বলতা থেকে যেতে পারে ভাইরাসের সংক্রমণে। এ নিয়ে সেই জুন মাস থেকে সরকার তৎপর হলেও, তা পর্যাপ্ত হচ্ছিল না বহু রোগীর ক্ষেত্রে। অভিযোগ আসছিল রাজ্যের নানা প্রান্তের হাসপাতালগুলি থেকে। আজ মঙ্গলবার থেকে নতুন নোটিক জারি করার পরে পরিস্থিতি বদলায় কিনা, সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x