নজরবন্দি ব্যুরোঃ তখন আসন্ন ২০২১ বিধানসভা নির্বাচন। সদ্য তৃণমূল ছেড়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল থেকে তখন বিজেপি শিবিরে যোগ দানের ঢল। কার্যত টুকরো হতে চলা দলকে মায়ের স্নেহে আর নিখুঁত পরিচালনায় লড়াইতে ফেরালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেছে নিলেন সব থেকে কঠিন লড়াই, লড়লেন নিজে। ডেস্টিনেশন নন্দীগ্রাম। বললেন বড় বোন ভবানীপুর আর মেজ বোন নন্দীগ্রাম। মেজ বোন না পারলেও বড় বোন ফেরাল হৃত সম্মান।
আরও পড়ুনঃ চার আসনে প্রার্থী ঘোষণা ‘মোদীশাহসুরমর্দিনী’ মমতার, দেবীপক্ষের সূচনা ভবানীপুরে!
হৃত সম্মান ফিরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে বিধানসভায় ফিরিয়ে দিল বড় বোন ভবানীপুর। রেকর্ড ভোটে জিতেছেন মমতা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের জয়ের রেকর্ড ছাপিয়ে জয়ী হয়েছেন ভবানীপুরে। বিজেপি প্রার্থীকে ৫৮ হাজার ৮৩২ ভোটে পরাজিত করেছেন তিনি। ২০১১-র উপনির্বাচনে জয়ের ব্যবধান ছিল ৫৪ হাজার ২১৩। এই উপনির্বাচনে জিতলেন তাঁর থেকেও বড় ব্যাবধানে। এই জয়েও যেন বিষাদের ছায়া নন্দীগ্রামের তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে।
সেই নন্দীগ্রাম, যা তৃণমূলের জমি আন্দোলনের ধাত্রীভূমি। সেই জমিতে সামান্য ভোটের ব্যাবধানে পরাজিত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও সেই পরাজয়ে বিতর্ক রয়েছে। এখন তা আদালতে বিচারাধীন। এদিন জয়ী হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘নন্দীগ্রামে চক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু সব চক্রান্তকে জব্দ করে দিয়েছেন বাংলার মানুষ, ভবানীপুরের মানুষ। তাঁরা আমাকে আরও কাজ করার প্রেরণা যুগিয়েছেন। আমি চিরঋণী।’’
বড় বোন ফেরাল হৃত সম্মান, মন খারাপ মেজ বোনের… কি বলছে নন্দীগ্রাম?

অন্যদিকে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ইলেকশন এজেন্ট শেখ সুফিয়ান বলছেন, ‘‘এখানে জেতার জন্য বিজেপি মেরুকরণ, ভোট লুঠ, গ্রামে গ্রামে উপঢৌকন বিলি, গণনা কেন্দ্রে কারচুপি সবই করেছে। পরের বার সুযোগ পেলে নন্দীগ্রামের মানুষ এর জবাব দেবে।’’ আরও যোগ করে সুফিয়ানের ব্যাখ্যা, ‘‘সে দিনের হারের জন্য আমরা আজও মর্মাহত।’’
ভবানীপুরের জয় কে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে সুফিয়ান বলেন, ‘‘ভবানীপুরের মানুষ গোটা দেশকে পথ দেখাবে। দলনেত্রীর বিপুল জয় রাজ্যের প্রতিটি কোণে থাকা তৃণমূল নেতা এবং কর্মীদের আরও উজ্জীবিত করবে।’’









