নজরবন্দি ব্যুরো: ঝাড়গ্রামে আদিবাসী দিবসের মঞ্চ থেকে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন রাজ্যপালকে ‘দালাল’ বলে কটাক্ষ করে বিজেপির টিকিটে ভোটে জিতে আসার চ্যালেঞ্জ করলেন তৃণমূল নেত্রী। ঠিক কী বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী?
আরও পড়ুন: চাঁচল থেকে আরামবাগ, বোর্ড গঠন নিয়ে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে দিকে দিকে উত্তেজনা!


মুখ্যমন্ত্রীর বয়ানে, “জঙ্গলমহলে আমরা শান্তি ফিরিয়ে এনেছি। এখন জঙ্গলমহলবাসী অনেক ভাল আছেন। ঝাড়গ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করেছি আমরা। আর আমাদের রাজ্যপাল কালো চশমা পরে জ্ঞান দিয়ে বেড়াচ্ছেন। আমরা পাঠালেও ফাইলে সই করেন না। অথচ কেরল থেকে নিয়ে এসে উপাচার্য করে দিচ্ছে। মনে রাখতে উপাচার্য হতে গেলে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা দরকার। আলিয়ায় একজনকে ভিসি করেছেন যার শিক্ষাক্ষেত্রে কোনও অভিজ্ঞতা নেই। ঝাড়গ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে না আছেন উপাচার্য, আর না আছেন রেজিস্ট্রার। সার্টিফিকেট পর্যন্ত দেওয়া যাচ্ছে না কাউকে। আমি মুখ্যসচিবকে অনুরোধ করছি ব্যবস্থা করার। আজই আমি উপাচার্য স্থির করব। আমি জানি উপাচার্য করতে গেলে ৩টি নাম পাঠাতে হয়।”
![]()
একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “রাজ্য বিধানসভায় যে বিলটি পাশ হয়েছে সৎ সাহস থাকলে তাতে সই করে দিন। ছাত্রছাত্রীদের ডেকে বলছে দুর্নীতি, দাঙ্গা কাকে বলে। এটা রাজ্যপালের কাজ? না রাজ্যপালের কাজ সংবিধানে সীমাবদ্ধ করা আছে। গায়ের জোরে রাজ্য কিনে নিতে পারেন না। বলছে মুখ্যমন্ত্রী যা করছে আমিও তাই করছি। আপনি তাহলে দল তৈরি করুন। ভোটে জিতে আসুন। বিজেপির হয়ে ভোটে দাঁড়ান। যদি জিততে পারেন। তাও ১০০ বছরে হবে না। ততদিন বিজেপি পার্টি উঠে যাবে।”



মঙ্গলবার রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণ দিবসে কবিগুরুর কবিতার প্রসঙ্গ ধরে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস বলেছিলেন, তিনি বলেন, “রবীন্দ্রনাথের ঠাকুরের বাংলা ‘সন্ত্রাস, হিংসা, দুর্নীতিতে ভরে গিয়েছে’, সে কারণে আমার ‘চিত্ত ভয়যুক্ত’, ‘মাথা হেঁট’ হয়ে রয়েছে”। রাজ্যপালের মন্তব্যের পাল্টা জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, “দেখবেন বেশি মাথা হেঁট করবেন না, তা হলে রোদচশমা খুলে পড়ে যাবে!” এবার আদিবাসী দিবসে রাজ্যপালকে নিশানায় আনলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পারলে বিজেপির টিকিটে ভোটে জিতে আসুন! রাজ্যপালকে ‘দালাল’ বলে আক্রমণ মমতার








