ভোটের মুখে ইডি অভিযানের উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও সংস্থার দফতরে তল্লাশির আসল লক্ষ্য তৃণমূলের গোপন নথি—বিশেষ করে দলের প্রার্থী তালিকা—হাতিয়ে নেওয়া। অভিযানের নেপথ্যে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর ভূমিকার অভিযোগও তোলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ভোরে Enforcement Directorate একযোগে হানা দেয় IPAC-এর সেক্টর ফাইভের দফতর ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈন-এর লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে। তল্লাশি চলাকালীনই ঘটনাস্থলে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী; সঙ্গে ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা।


প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বাড়িতে ঢোকার সময় মুখ্যমন্ত্রী খালি হাতেই প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে আসার সময় তাঁর হাতে একাধিক ফাইল, একটি হার্ড ডিস্ক ও একটি ল্যাপটপ দেখা যায়—যা মুহূর্তে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ায়। বাইরে এসে সংবাদমাধ্যমকে মমতা বলেন, “এই অভিযান দুর্ভাগ্যজনক। আমার দলের আইটি দফতরে অভিযান চালানো হয়েছে। দলের সব গোপন নথি ও প্রার্থী তালিকা চুরি করতেই ইডি পাঠানো হয়েছে। ন্যাস্টি হোম মিনিস্টার—নটি হোম মিনিস্টার।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই উপস্থিতি ও প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে অনেকেই ২০১৯ সালের ঘটনার মিল খুঁজছেন—যখন এই লাউডন স্ট্রিটেই তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই অভিযান চলাকালীন পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। যদিও এ বার ধর্নার পথে না গিয়ে দলের নথি নিয়ে সরে আসেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিরোধী শিবির অবশ্য পাল্টা তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে বাধা দিয়েছেন। এটা অনৈতিক ও অসাংবিধানিক। সংবিধান মেনে ইডির উচিত তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া। নইলে রাজ্যে ভুল বার্তা যাবে।” শুভেন্দুর আরও দাবি, আইপ্যাক একটি কর্পোরেট সংস্থা—রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নয়; ফলে সেখানে আইন মেনেই তদন্ত চলতে পারে।


সব মিলিয়ে, ইডি অভিযান ঘিরে অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগে রাজ্য রাজনীতি ফের তপ্ত। তদন্ত কতদূর গড়ায় এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া কোন দিকে মোড় নেয়—সেদিকেই এখন নজর।








