টেলিগ্রাম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ! ‘নিট’ প্রশ্নফাঁস রুখতে কেন্দ্রের পদক্ষেপে দিল্লি হাই কোর্টে মামলা

‘নিট ইউজি ২০২৬’ পুনঃপরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রতারণা রুখতে টেলিগ্রামের উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কেন্দ্র। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই দিল্লি হাই কোর্টে গেল সংস্থা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

টেলিগ্রাম অ্যাপের উপর কেন্দ্রীয় সরকারের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা ঘিরে নতুন আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। ‘নিট ইউজি ২০২৬’ পুনঃপরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াতি রুখতে নেওয়া কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবার দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে টেলিগ্রাম। বুধবারই মামলার শুনানি হওয়ার কথা বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চে। ফলে ‘নিট’ পরীক্ষা এবং টেলিগ্রাম নিষেধাজ্ঞা—দুই ইস্যুকেই ঘিরে বাড়ছে জল্পনা।

কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, ‘নিট’ পুনঃপরীক্ষার আগে অনলাইন মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রতারণার চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। সেই কারণেই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টেলিগ্রাম প্ল্যাটফর্মের উপর নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপটি।

কেন টেলিগ্রামের উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা?

ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র দাবি, গত কয়েক মাস ধরে একাধিক টেলিগ্রাম চ্যানেলের উপর নজরদারি চালানো হচ্ছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, কিছু চ্যানেল প্রকাশ্যে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পাইয়ে দেওয়ার দাবি করছিল।

‘পেপার লিকড লিট’, ‘রি-নিট ২০২৬’ এবং ‘রি নিট মাফিয়া’-র মতো নাম ব্যবহার করে কয়েকটি চ্যানেল পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করছিল বলেও অভিযোগ। এনটিএ জানিয়েছে, এগুলি আসলে প্রতারণার ফাঁদ এবং পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা।

‘নিট’ প্রশ্নফাঁস বিতর্কে তোলপাড়

গত ২ মে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘নিট ইউজি ২০২৬’ পরীক্ষা। প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেন। পরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসতেই শুরু হয় তদন্ত।

সিবিআই তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে কয়েকজন অধ্যাপক রয়েছেন, যাঁদের সঙ্গে পরীক্ষার বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার যোগসূত্র ছিল বলে অভিযোগ।

পুনঃপরীক্ষার আগে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা

বিতর্কের জেরে এনটিএ আগামী ২১ জুন পুনঃপরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে এবার বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হচ্ছে।

সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, প্রশ্নপত্র তৈরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পৃথকভাবে রাখা হবে। প্রশ্নপত্র প্রস্তুতি, অনুবাদ, যাচাই, মুদ্রণ, প্যাকেজিং, পরিবহণ থেকে শুরু করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছনো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে বিশেষ নজরদারি থাকবে।

বায়ুসেনার বিমানেও প্রশ্নপত্র পরিবহণ

প্রশ্নপত্র পরিবহণকে আরও সুরক্ষিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, দেশের বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পৌঁছে দিতে বায়ুসেনার বিমান ব্যবহারের পরিকল্পনাও করা হয়েছে। গোটা প্রক্রিয়া কড়া নিরাপত্তার আওতায় রাখা হবে।

এখন নজর দিল্লি হাই কোর্টের শুনানির দিকে। টেলিগ্রামের চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষিতে আদালত কী অবস্থান নেয়, তা শুধু এই জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের ভবিষ্যৎ নয়, ‘নিট’ পুনঃপরীক্ষার প্রস্তুতিকেও প্রভাবিত করতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর