বাঘ-সিংহের খাবারেও দুর্নীতি! কোটি টাকার গরমিল খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ বনমন্ত্রীর

রাজ্যের ১২টি চিড়িয়াখানায় বাঘ-সিংহের খাবার সরবরাহে কোটি টাকার গরমিলের অভিযোগ। তদন্তের ইঙ্গিত বনমন্ত্রীর, চালু হচ্ছে ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্যের চিড়িয়াখানাগুলিতে বন্যপ্রাণীদের খাবার সরবরাহে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ তুললেন বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাঁও। ডিজিটাল নজরদারি ও তদন্তের ইঙ্গিত।

আবাস যোজনা, নির্মাণ প্রকল্প বা সরকারি ভাতা নয়— এবার অভিযোগ উঠল চিড়িয়াখানার বাঘ-সিংহের খাবার নিয়েও। রাজ্যের বিভিন্ন চিড়িয়াখানা ও বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্রে মাংসাশী প্রাণীদের খাদ্য সরবরাহে বড়সড় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এনে তদন্তের ইঙ্গিত দিলেন বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাঁও

মন্ত্রী দাবি করেছেন, গত কয়েক বছরে বন্যপ্রাণীদের জন্য বরাদ্দ খাদ্য বাবদ অর্থের একটি অংশ নিয়মিতভাবে অপব্যবহার হয়েছে। অভিযোগ, কাগজে-কলমে যে পরিমাণ মাংস সরবরাহের হিসাব দেখানো হয়েছে, বাস্তবে তার তুলনায় অনেক কম খাবার দেওয়া হয়েছে চিড়িয়াখানার আবাসিক প্রাণীদের।

রাজ্যে বর্তমানে ১২টি চিড়িয়াখানা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে একশোরও বেশি সিংহ, রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, চিতা ও অন্যান্য মাংসাশী প্রাণী রয়েছে। বন দপ্তরের নথি অনুযায়ী, তাদের খাদ্য ও পরিচর্যার জন্য প্রতিবছর কয়েক কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। তবে বাজারদরের ওঠানামা এবং মাংস সরবরাহের পরিবর্তনশীলতার কারণে খরচের নির্দিষ্ট কাঠামো সবসময় বজায় রাখা সম্ভব হয় না।

এই পরিস্থিতিকেই দুর্নীতির সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ বনমন্ত্রীর। তাঁর দাবি, সপ্তাহের অধিকাংশ দিন প্রাণীদের যে পরিমাণ মাংস পাওয়ার কথা, বাস্তবে তা দেওয়া হয়নি। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে খাদ্য বরাদ্দের অর্থে ব্যাপক গরমিল তৈরি হয়েছে।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বন দপ্তরে আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সল্টলেকের অরণ্য ভবনে একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে বসেই বিভিন্ন চিড়িয়াখানার প্রাণীদের খাবার, চিকিৎসা এবং দৈনন্দিন পরিচর্যার তথ্য পর্যবেক্ষণ করা হবে।

সূত্রের খবর, ক্যামেরা ও ডিজিটাল রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রাণীদের কতটা খাবার দেওয়া হচ্ছে, তা রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের তথ্যের সঙ্গে রেজিস্টার ও সরকারি নথির মিলও খতিয়ে দেখা হবে।

শুধু চিড়িয়াখানাই নয়, বন দপ্তরের অন্যান্য আর্থিক কর্মকাণ্ডেও স্বচ্ছতা আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টিকিট কাউন্টার, বন পর্যটন কেন্দ্র এবং হস্তিশালার মতো জায়গাতেও ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

তবে বন দপ্তরের একাংশের মতে, যদি অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হয়, তাহলে বিষয়টি শুধুমাত্র স্থানীয় স্তরে সীমাবদ্ধ নয়। কারণ প্রাণীদের খাদ্য বরাদ্দ, হিসাব সংরক্ষণ এবং তথ্য আদানপ্রদানের সঙ্গে একাধিক প্রশাসনিক স্তর জড়িত। ফলে তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে।

বাঘ-সিংহের খাবার থেকে সরকারি অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। বনমন্ত্রী ইতিমধ্যেই তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এখন নজর থাকবে তদন্তে কী তথ্য সামনে আসে এবং প্রকৃতপক্ষে এই অভিযোগের নেপথ্যে কারা জড়িত বলে উঠে আসে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর